খালেদা জিয়ার সাজা ৬ মাস স্থগিত, যে কোন সময় মুক্তি

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৬ মাস স্থগিত রেখে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া যে কোন সময় তাকে মুক্তি দেয়া হবে।

মঙ্গলবার বিকালে গুলশানের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশ না যাওয়ার শর্তে ৪০১ ধারার ১ উপ-ধারা মতে তাকে মুক্তি বিষয়ে মতামত দিয়েছি।

মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মানবিক কারণে তার বয়স বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।  এসময় শুধু পুলিশ, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা খোলা থাকবে।

সোমবার করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল এ ঘোষণা দেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

এই ছুটির সঙ্গে ২৬ মার্চের ছুটি ও ২৭-২৮ মার্চ শুক্র-শনিবার এবং ৩ ও ৪ এপ্রিল শুক্র-শনিবার যোগ হবে। তবে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা খোলা থাকবে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে সামাজিক দূরত্ বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনী সারাদেশে মাঠ প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, তথ্যসচিব, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংসদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন ২০২০ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংসদ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি আয়োজন করে। ১৭ মার্চ ২০২০ ঢাকার মিরপুরে ইউনিসেফ প্রজেক্ট ‘সুরভি স্কুল’-এর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সুরভি স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং করা হয়। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিকট স্বাস্থ্য উপকরণ ও খাবার বিতরণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক এস এম আলী আজম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুরভি স্কুলের শিক্ষিকা রুপালী জাহান, সুমাইয়া ইসলাম, সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান রাফি, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রত্যয় বিশ্বাস, সহ সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক বৃষ্টি ভদ্র সিমন্তী। অনুষ্ঠানের আহবায়ক ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় পারভেজ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফিফা তাবাসসুম, দপ্তর সম্পাদক লামিয়া আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আবু জাহের রানা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিবা আজম মাটি, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সৌগত মুনির বর্ণ, সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার রহমান দীপ্ত, সহ-অনুষ্ঠান সম্পাদক সিফায়েত সাকিব, সহ রক্তদান সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ ফারদিন, কার্যনির্বাহী সদস্য নাফিস রাইয়ান ওমি ও রজণীগান্ধা সরকার।
বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দেশাত্মবোধক গানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে লাবনী আক্তার, রামিম ও তানজিনা আক্তার। কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে তানজিনা আক্তার, লাবনী আক্তার ও সাকিবুল হাসান শাওন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে সজীব, রত্মা আক্তার ও মো. ইমরান। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে সজীব, আবদুল্লাহ শিকদার ও সাকিবুল হাসান। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট তুলে দেন বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আলী আজম। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনে সফল হতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এবং সেই সাথে সকলকে করোনা ভাইরাসসহ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।

গোলাপগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আ’লীগের রালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আকবর আলী ফখরের নেতৃত্বে র্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় র্যালিটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।

এসময় উপস্হিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আব্দুল জব্বার বাদাই, আবুল লেইছ, ইজলাল আহমদ, কবির আহমদ, চান্দ আলি, আব্দুল জলিল, নিজাম উদ্দিন, মইন উদ্দিন, বাহার উদ্দিন, তুরু মিয়া, জুবের আহ্মদ, শরিফ উদ্দিন, শাহজাহান আহমদ, বাহার আহমদ, আজমল হুসেন,ফখরুল ইসলাম সাহেদ, মারজান আহমদ রিপন, সাইদুর রহমান দুলাল, যুবলীগ নেতা আমির হুসেন রাহি, শাহ ইমরান, কামরান হোসেন, আব্দুস শহিদ, তাজুল ইসলাম, রুবেল আহমদ, রাজু আহমদ, তারেক আহমদ প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

খোকা থেকে মহানায়ক

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার আজোপাড়া টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন এক শিশু। সে দিনটির সন্ধ্যায় বাঙালি জাতির শতবর্ষের পরাধীনতার শিকল ভাঙতে আলোর দিশারি হয়ে এসেছিলেন।

বাবা-মায়ের আদরের সেই খোকা একদিন হয়ে উঠেছিলেন মহানায়ক। যার আলোয় গোটা জাতি পেয়েছিল আলোর মশাল। বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস আজ।

এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হবে। মূলত টুঙ্গিপাড়ায় ক্ষণজন্মা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির মুক্তির দূত। বঙ্গ বা বাংলার সত্যিকারের আপনজন হয়ে উপাধি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

অদম্য সাহস আর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, ত্যাগ, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা সম্বলিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক হয়েছিলেন। জাতির পিতার সকল অনুভূতি ছিলো এ দেশের মানুষের প্রতি।

তাই তো বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন।

তার নেতৃত্বে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলাভ, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন,’ ৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’-এর নিরঙ্কুশ বিজয়সহ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ৭ মার্চ এসেছিল— শত বছরের বঞ্চনার শিকার পথ হারানো বাঙালির আলোকবর্তিকা হয়ে। সেদিন একটি কণ্ঠের ধ্বনিতে সুর মেলায় গোটা জাতি, হয় পরাধীনতামুক্ত। আজো প্রতিটি বাঙালি প্রাণে বাজে ৭ মার্চে সে বজ্রকণ্ঠ।

সেদিনের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যার কারণে বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মুজিবাদর্শে শানিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবাহমান থাকবে।

তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমিরবিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা।

উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন সারথী। ২০০৪ সালে, বিবিসির বাংলা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শিরোনাম নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত একটি জরিপ পরিচালনা করে।

জরিপটিতে বাংলাদেশ, ভারতসহ (পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম রাজ্য) বিশ্বব্যাপী অবস্থানরত বাঙালিরা অংশগ্রহণ করে। ওই জরিপের মনোনয়নে মোট ১৪০ জনের নাম আসে।

১৪ এপ্রিল চূড়ান্ত দিনে, যা পহেলা বৈশাখও (বাংলা নববর্ষ) ছেলা, বিশ্বব্যাপী অবস্থানরত বাঙালিদের ভোটদানের ভিত্তিতে বিবিসি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে ঘোষণা করে।

জরিপে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় স্থান অধিকারী গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পয়েন্ট পেয়েছেন, যেখানে ঠাকুর নিজেই কাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে দ্বিগুণ পয়েন্ট পেয়েছেন এবং নজরুল ইসলাম এ কে ফজলুল হকের চেয়ে দ্বিগুণ পয়েন্ট পেয়েছেন।

পরাধীনতা ভেদ করে স্বাধীন পতাকা নিয়ে যখনই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে একজন মুজিব নিরন্তন ছুটে চলতে শুরু করলেন। ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আর এদেশীয় দোসরদের নির্মমতার বলি হন জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। পরবর্তীতে অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী বঙ্গবন্ধুর খুনি স্বৈরশাসক স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার বিকৃত ইতিহাস ও মূল্যবোধের বিস্তার ঘটানোর পাঁয়তারা চালায়। খুনিরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির অনির্বাণ হয়ে প্রজ্জ্বলিত থেকেছে প্রতিটি বাঙালি হূদয়ে। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অবিভাজ্য সম্পর্কের কোনো পরিসমাপ্তি ঘটেনি। জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী নেতাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আসছে।

বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি’। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি।

শ্রীলঙ্কার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে।

কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে। ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এই দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়।’

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে এমন মন্তব্য লিখেছিলেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মন্তব্য বইয়ে লিখেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সম্মোহনী এবং অসীম সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর জনগণের নেতৃত্বদান করেছিলেন।

জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান উলফ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেন, এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের একজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি তার জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং অতিদ্রুত স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন নেতা এবং রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি স্বাধীনতার জন্য প্রতিকূলতা ও বিরূপ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে অটল সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন।’ বাঙালি ও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কালজয়ী নাম।

বিশ্ব বাঙালির গর্ব— মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বাঙালি মানসে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির নির্মাতা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি সারাটি জীবন পরাধীনতা শিকল থেকে বাঙালি জাতিকে স্বাধীন, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন।

জাতির পিতা বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করবে সরকার। মুজিববর্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আজ ১৭ মার্চ শুরু হয়ে মুজিববর্ষের কর্মসূচি চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের এ মহানায়কের শতবর্ষ ঘিরে মহাউৎসবে রূপ নেবে দেশ। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও অধিকাংশ দেশে উদযাপিত হবে মুজিববর্ষ, অর্থাৎ বিশ্বময় পালিত হবে মুজিববর্ষ।

রাজনীতির এ মহাকবির আদর্শ তুলে ধরা হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে, যার মাধ্যমে উঠে আসবে বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের সঠিক ইতিহাস।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে সম্প্রতি মুজিববর্ষের বছরব্যাপী নেয়া কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা রেখে এবং মানুষের যেনো কষ্ট না হয় সে জন্য জনসমাগম সম্পৃক্ত অনুষ্ঠান পরিহার করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানমালায় ভিন্নতা এনে জোর দেয়া হয়েছে নাগরিকসেবা নিশ্চিতের। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ-অর্জন তুলে ধরতে নেয়া হবে বিশেষ প্রচারণামূলক ব্যবস্থা।

তৃণমূল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিকসেবা নিশ্চিতের সরকারি কাজের তৎপরতা বাড়ানো হবে। জনসমাগম না করেই মুজিববর্ষকে সর্বজনীন করতে সরকারিভাবে নেয়া হয়েছে সব ধরনের উদ্যোগ। বছরজুড়ে সারা দেশে পালিত হবে অনুষ্ঠানমালা, অর্থাৎ তৃণমূল থেকে কেন্দ্র উৎসবে আমেজ থাকবে।

এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনেও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বড় ধরনের জমায়েত পরিহার করে উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মসূচি পালন করা হবে।

সরকারের সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার মাধ্যমে মুজিববর্ষের সেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বছর যেসব অনুষ্ঠান করে থাকে, সেখানে জাতির জনকে আলাদাভাবে তুলে ধরবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ কিছু সেবা নিয়ে সারা বছর সাধারণ মানুষকে মুজিবর্ষে সম্পৃক্ত করবে। উদাহরণ স্বরুপ সিনিয়র সিটিজেনদের কর্মসূচি, অক্ষরহীনদের জন্য অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হওয়ার জন্য কর্মসূচি নেয়া হবে। অর্থাৎ সেবা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতিময় করে কর্মসূচি নেয়া হবে।

সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যে সকল প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে, সেগুলোও জনসমাগম এড়িয়ে সীমিত আকারে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকার দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয়সহ নিয়মিত অনুষ্ঠান বা কর্মকাণ্ডেও মুজিববর্ষ সংযুক্ত করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, জন্মদিন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি, জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচিসহ অন্যান্য কর্মসূচিও মুজিববর্ষের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বিতভাবে পালন করবে আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ বছরজুড়ে দলীয় সব কর্মসূচিতে জাতির পিতাকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হবে।

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু সেসব ত্যাগ, মানবপ্রেম, বাঙালিকে নিয়ে চিন্তা করতেন ডকুমেন্ট তৈরি করে টেলিভিশনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রচারণা চালানো হবে। মুজিবর্ষ উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মুজিববর্ষের উদ্বোধনী মূল আজ ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করনোর ভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউনেস্কো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যেকোনো বার্ষিকী যদি ইউনেস্কোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে ওই দিবস যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সেই হিসাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। প্যারিসে অনুষ্ঠিত এর ৪০তম সাধারণ পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে ইউনেস্কো বা এর ১৯৫ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বা দ্বিপাক্ষিকভাবে এই দিবসটি পালন করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে আছে; এমন শহর ছাড়াও বাংলাদেশিরা বসবাস করেন সেইসব শহরেও নানা আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লন্ডন, সিডনি শহরে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

দিবসের কর্মসূচি : রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনসহ সরকারি ও বেসরকারিভাবে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের পরপর আতশবাজির মাধ্যমে জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেল, সোস্যাল ও অনলাইন মিডিয়ায় একযোগে সমপ্রচার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমপ্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ‘মুক্তির মহানায়ক’ নামে দুই ঘণ্টা টেলিভিশন অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আজ রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সকল টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একযোগে সম্প্রচার করা হবে। এই প্রোগ্রামটার মধ্যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সেখানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন, পরে কবিতা পাঠের আয়োজন থাকবে। ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানাবেন— ভারতের প্রধানমন্ত্রী, নেপালের রাষ্ট্রপতি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের মহাসচিব ও ওআইসি মহাসচিব।

উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, অবদান ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে ’চিত্রপটের দৃশ্যকাব্যে বঙ্গবন্ধু’ নামে থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফির আয়োজন থাকবে। এটি পরিবেশন করবে শিল্পকলা একাডেমি।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঠিক রাত ৮টায় আতশবাজির লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে শুরু হবে।

‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত সম্প্রচারের পর রাষ্ট্রপতির বাণী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার অনুভূতি প্রকাশ ও তাঁর লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে পাঠ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রধানদের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসটি জাতীয় শিশু দিবস বিধায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের পরিবেশনা থাকবে। শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসঙ্গীত, মুজিববর্ষের থিমসং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিক্যাল পারফরমেন্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনা থাকছে এই প্রোগ্রামে।

প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী প্রোগ্রামের শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবে।

এছাড়াও দেশের সকল ধর্মীয় উপাসানালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ হবে।

রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধু জন্মক্ষণ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৩২ নং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আতশবাজি প্রদর্শনী হবে।

এছাড়াও ঢাকার রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসটি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাতি প্রদর্শনী হবে।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা। রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে শোভা পাবে বঙ্গবন্ধু বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের নান আলোকচিত্র।

করোনা আক্রান্ত দু’জনের একজন ইতালি ফেরত, আরেকজন জার্মান

নতুন করে আরো দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভাইরাস পাওয়া গেছে। এই দু’জনের একজন ইতালি এবং অন্যজন জার্মান থেকে দেশে এসেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী এখন ভালো হয়ে গেছে।

দু’জনকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। একজনকে আজ ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে আরো দু’জন রোগী আমরা পেয়েছি।

এখন আমরা সেই দু’জনকে নিয়ে এসেছি; হাসপাতালে রেখেছি। যা যা চিকিৎসা দেওয়া দরকার সেটা আমরা শুরু করেছি।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের দেশে যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে এসেছেন, আগে দু’জন এবং পরে দু’জন বিদেশ থেকে এসেছেন। এছাড়া বিদেশ থেকে আসা এক রোগীর সঙ্গে থাকার ফলে আরেকজনেরও এই রোগ হয়।

দেশে নতুন করে আরো দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত

দেশে নতুন করে আরও দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী বলেন, তাদের একজন ইতালিফেরত, আরেকজন জার্মানি ফেরত। তাদের আমরা এনেছি, হাসপাতালে রেখেছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী এখন ভালো হয়ে গেছে। দু’জনকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। একজনকে আজ ছেড়ে দেওয়া হবে।

কিন্তু ইতিমধ্যে আরো দু’জন রোগী আমরা পেয়েছি। এখন আমরা সেই দু’জনকে নিয়ে এসেছি; হাসপাতালে রেখেছি। যা যা চিকিৎসা দেওয়া দরকার সেটা আমরা শুরু করেছি।

বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় আমরা কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছি বলেও তিনি জানান।

প্রাণঘাতী করোনায় বাংলাদেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ

চীনের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সব ধরনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার রাতে এ ঘোষণা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইউরোপ ও করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে কেউ আসতে পারবেন না।

ইতালিফেরত ১৪২ জনের শরীরে নেই করোনার উপসর্গ, থাকবে কোয়ারেন্টাইনে

ইতালি থেকে দেশে ফেরা ১৪২ জন বাংলাদেশির শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ না থাকায় নিজ নিজ বাড়িতে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানায়।

আইইডিসিআর জানায়, আশকোনার হজ ক্যাম্পে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনার কোনো উপসর্গ না পাওয়ায় ১৪২ জনকেই নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

এছাড়া ৫৯ জনকে গাজীপুরে নেয়া হবে। তাদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

এর আগে, সকালে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন এই ১৪২ জন বাংলাদেশি।

এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। পরে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কারো শরীরে করোনার লক্ষ্যণ ধরা না পড়ায় তাদর নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আইইডিসিআর।

দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ সিলেট

সিলেট প্রতিনিধিঃ দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করলো সিলেট। নগরীর ১২৬টি এক্সেস পয়েন্টে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো সিলেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সিলেটকে ‘ওয়াইফাই সিটি’ আখ্যা দিয়ে এর ইউজার নেম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও পাসওয়ার্ড হিসেবে জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ঘোষণা করেছেন।

‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে সিলেটের যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।

নির্বাচনের আগে তিনি ‘আলোকিত উন্নত সিলেট’র যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাতে সিলেটকে একটি স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল। সে লক্ষ্যে পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, ‘ওভারহেড ক্যাবল লাইন’ অপসারণ করে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ করাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। এসব উন্নয়ন কাজ শেষ হলে সিলেট পুরোপুরি স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর হবে বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।

সিলেটের যে সকল স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই :
চৌকিদেখিতে ১টি, আম্বরখানা পয়েন্টে ৪টি, দরগা গেইটে ২টি, চৌহাট্টায় ৩টি, জিন্দাবাজারে ৪টি, বন্দরবাজার ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় ৩টি, হাসান মার্কেট এলাকায় ৫টি, সুরমা ভ্যালি রেস্ট হাউস এলাকায় ২টি, সার্কিট-হাউস জালালাবাদ পার্ক এলাকায় ৩টি, ক্বিন ব্রিজের দুই প্রান্তে ৬টি, রেলওয়ে স্টেশনে ৪টি, বাস টার্মিনালে ৩টি, কদমতলী পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকায় ৫টি, হুমায়ুন রশীদ চত্বরে ৩টি, আলমপুর পাসপোর্ট অফিস এলাকায় ২টি, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এলাকায় ৩টি, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে ২টি, উপশহর রোজভিউ পয়েন্টে ২টি, শহাজালাল উপশহর ই-ব্লক ও বি-ব্লকে ১টি করে ২টি, টিলাগড় পয়েন্টে ৩টি, এমসি কলেজ এলাকায় ২টি, শাহী ঈদগাহ এলাকায় ৩টি, কুমারপাড়া এলাকায় ৩টি, কুমারপাড়া সড়কে ২টি, দক্ষিণ বালুচরে ১টি, টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ১টি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ১টি এক্সেস পয়েন্ট থাকবে।

এছাড়াও সিলেট নগরীর নাইওরপুল পয়েন্টে ২টি, মিরাবাজার সড়কে ১টি, রায়নগর এলাকায় ১টি, সোবহানীঘাট পুলিশ স্টেশন এলাকায় ২টি, ধোপাদিঘীরপাড় বঙ্গবীর ওসমানী শিশু উদ্যানে ১টি, বন্দরবাজার জামে মসজিদ এলাকায় ২টি, নয়াসড়ক পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকায় ৪টি, কাজীটুলা এলাকায় ২টি, চৌহাট্টা সড়কে ৩টি, হাউজিং এস্টেট সড়কে ১টি, সুবিদবাজারে ১টি, মিরের ময়দানে ১টি, পুলিশ লাইন সড়কে ১টি, রিকাবীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে ২টি, মদন মোহন কলেজ এলাকায় ১টি, মির্জাজাঙ্গাল সড়ক এলাকায় ২টি, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট এলাকায় ১টি, খুলিয়াপাড়া এলাকায় ১টি, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি এলাকায় ১টি, তালতলা হোটেল গুলশান এলাকায় ১টি, কাজিরবাজার সেতু এলাকায় ১টি, কাজিরবাজার সড়কে ২টি, খোজারখলা সিলেট টেকনিক্যাল কলেজ এলাকায় ১টি, বাগবাড়ি ওয়াপদা মহল্লা এলাকায় ১টি, পাঠানটুলায় ১টি, মদিনা মার্কেট পয়েন্টে ২টি, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেটে ২টি এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় ১টি এক্সেস পয়েন্ট রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এসব এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসঙ্গে ৫০০ জন যুক্ত থাকতে পারবেন। এরমধ্যে একসঙ্গে ১০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টের চতুর্দিকে ১০০ মিটার এলাকায় ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট/সেকেন্ড।