ব্রহ্মপূত্রের শাখা নদী ঝিনাই, বংশী ও বানার খননের পরিকল্পণা

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :এককালের খরস্রুতা এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খননের পাশাপশি আরো প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপূত্রের শাখা ঝিনাই, বংশী ও বানার নদী খননে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পটির ইতিমধ্যেই প্রিএকনেক সম্পন্ন হয়েছে। একনেকে পাস হলেই শুরু হবে এই তিনটি নদীর খনন কাজ। এছাড়াও ব্রহ্মপূত্র নদের ৯০ কিলোমিটার খননকাজে ২৩টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত ড্রেজিংকাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার।

চলমান ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার এসব তথ্য জানান।
খোন্দাকার মোস্তাফিজুর রহমান সভায় জানান, ব্রহ্মপূত্র নদ খননের পাশাপাশি ময়মনসিংবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে একটি নৌ বন্দর স্থাপন, মাছের অভয়ারণ্য ও নদের দুধারে পরিকল্পিত বনায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দেয়া হবে। মানসম্মতভাবে নদ খননে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন ব্রহ্মপূত্র নদ খননের পাশাপাশি সিএস, আরওআর ও আরএস পর্যালোচনা করে ব্রহ্মপূত্র নদের সীমানা চিহ্নিত ও পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের পর অবৈধদখলদার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

চলমান ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ দিদার এ আলম, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের ময়মনসিংহের সভাপতি অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহম্মদ লিটন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম ও টিলিভিশন জার্ণালি এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় প্রমূখ।

বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার আরো জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং শুকনো মৌসুমে ১০ফুট গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরো জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর অংশের ব্রহ্মপূত্র নদের খনন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসে দাখিলকৃত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নদটির নাব্যতা ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজ করার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের ভিত্তি নাম ফলক উন্মোচন করেন।

কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ উপলক্ষে ময়মনসিংহের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ সেলিমঃ পুলিশের সঙ্গে কাজ করি মাদক জঙ্গি সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়ি এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর(শনিবার) সকাল ১০ টায় ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় হতে কমিউনিটি পুলিশিং ডে -২০১৯ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে টাউনহল এসে শেষ হয়। ময়মনসিংহ মহানগরীর এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে কমিউনিটি পুলিশিং ডে ২০১৯ এর আলোচনা সভা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি বিপিএম। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, সরকারি আনন্দমোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র ভৌমিক,জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মো:আনিসুর রহমান,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক,মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহ্তেশামুল আলম, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি এর সভাপতি আমির আহমদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন প্রমূখ। বক্তাগণ বলেন বাংলাদেশ প্রথম ১৯৯৩ সালে ময়মনসিংহে কমিউনিটি পুলিশিং গঠিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রমের মাধ্যমে যা পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এবং জনতা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাজ থেকে স্থায়ীভাবে দুর্নীতি,মাদক,জঙ্গি ও সন্ত্রাস চিরতরে নির্মূল করা যাবে এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।যেহেতু কমিউনিটি পুলিশরা জনগণের মাঝে মিশে আছে তাই কমিউনিটি পুলিশিং এর সহায়তা ছাড়া সমাজ থেকে এই সকল অনাচার দূর করা যাবে না। তাই বক্তাগণ কমিউনিটি পুলিশিং সুন্দর সমাজ গঠনের নিয়ামক বলে উল্লেখ করেন।আর কমিউনিটি পুলিশিং এর ওপর একটি সুন্দর বির্তক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বির্তক প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার) সৌজন্য শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তা হিসাবে পুরষ্কার লাভ করেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই নিরুপম নাগ।নিরুপম নাগকে পুরষ্কার তুলেদেন ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি ও জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম(বার)।

তাহযীবুল উম্মাহ মডেল মাদরাসা’র কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মোঃ সেলিম :- তাহযীবুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসা ময়মনসিংহ এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে টাউনহল এড. তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে তাহযীবুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাহযীবুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.কে.এম আতাউর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহাবুবুল আলম দুলাল। এছাড়াও সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ময়মনসিংহ ঈদগাহ্ জামে মসজিদেও পেশ এমাম মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এডভান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও এ.এফ.বি নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন, এ.এফ.বি এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনি, এ.এফ.বি এর পরিচালক ও বাকৃবির উপধ্যক্ষ এর অধ্যাপক ড. আবু জুফার মো. মোসলেহ্ উদ্দিন, ময়মনসিংহ কোতুয়ালী থানার পরিদর্শক মো. দুলাল উদ্দিন দুলাল প্রমূখ । আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে তাহযীবুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস – ২০১৯ উদযাপন

মাহাবুবুল আলম সোহাগ :ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি ও রাইট হেয়ার রাইট নাউ বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে গত ২৩ অক্টোবর (বুধবার)
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের টাউন হলে রোড শো, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কন্যা শিশু দিবস অনুষ্ঠানে ব্র্যাক জেলা প্রতিনিধি ফারহানা মিল্কী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ময়মনসিংহে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) সমর কান্তি বসাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ হাফিজুর রহমান ,ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম,ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম। বাংলাদেশ বেতারের সারওয়ার জাহান এর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আমেনা আক্তার। এবারের জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের মূল্য প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো”কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি রিক্সা র‍্যালি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে এসে শেষ হয়। এরপর ময়মনসিংহের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়াম বাল্যবিবাহ ও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তৃতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ একটি বড় বাধা। বাল্যবিবাহের কারণে ছেলে- মেয়ে উভয় শিশুরই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।অনুষ্ঠানে এছাড়াও আরও উপস্তিত ছিলেন অন্যন্যা সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী, কিশোর কিশোরী, ইয়ুথ এ্যাডভোকেট,সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ও ব্র্যাক কর্মকর্তা সহ প্রায় ২০০ জন।

একনেকে ৫ প্রকল্পের অনুমোদন, ব্যয় হবে ৪৬৩৬ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চার হাজার ৬৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে এক হাজার ৪৭৬ কোটি ৪ লাখ এবং বিদেশি ঋণ তিন হাজার ১৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় এই একনেক সভায়। এতে ব্যয় হবে ২০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো-স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্প (এমডিএসপি) (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (রংপুর জোন) (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প; ‘দর্শনা-মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৭৮৯) উন্নয়ন প্রকল্প এবং ‘চাষাঢ়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড মহাসড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের পঞ্চম দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।

দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ২.২৫ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মাসেতুর ১৫ তম স্প্যান ‘৪-ই’ বসানো হয়েছে ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারের উপর। কয়েকদিনের চেষ্টায় অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২২৫০ মিটার (২.২৫ কিলোমিটার)।

একের পর এক স্প্যান বসিয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে চলছে পদ্মাসেতুর। গাড়ি ও ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। চতুর্দশ স্প্যান বসানোর তিন মাস ২৩ দিনের মাথায় স্থায়ীভাবে বসলো এই পঞ্চদশ স্প্যানটি।

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আর ২৬টি স্প্যান বসলেই।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারের উপর স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২২৫০ মিটার।

সকাল থেকেই স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আর ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে বহন করে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, দুই পিলারের মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে এনে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়। এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর উপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা স্প্যানটি বসাতে সক্ষম হন।

প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মাসেতুতে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়।

এর আগে সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জাজিরা প্রান্তের চর এলাকা থেকে ‘৪-ই’ স্প্যানকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের সামনে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, ড্রেজিং করেও স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। পলি অপসারণ করার ১-২ ঘণ্টা পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে নদীর তলদেশ।

ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন বহন করে আনতে নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর আরও ৩টি স্প্যান প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে স্প্যানগুলো বসাতে দেরি হচ্ছে। সেতুর ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩ নম্বর পিলারের ওপর চারটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে চলতি বছরের মধ্যে। সর্বশেষ ২৯ জুন মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের ওপর বসে চতুর্দশ স্প্যান ৩ সি।

জানা যায়, পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক –দুই হাজার ৭৬৮টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার গণভবনে নতুন এমপিওপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা করবেন। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত সপ্তাহে এ তালিকা অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। ঘোষণার পরপরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এমপিওভুক্ত করা হয় এক হাজার ছয়শ’র মতো প্রতিষ্ঠান। ওই তালিকাটি প্রথমে দৈনিক শিক্ষাডটকমে এবং পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। তবে, এবার একটু ব্যতিক্রম হচ্ছে। এবার সুখবরটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: সোহরাব হোসাইন উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ মতবিনিময় ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র জাতীয় পত্রিকা দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক ও এডুকেশন রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান খানসহ প্রায় ত্রিশটি বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্পাদকদের মধ্যে প্রথম আলা, সমকাল, ইত্তেফাক, ডেইলিস্টার, জনকন্ঠ, ভোরের কাগজ, সংবাদ, কালেরকন্ঠ ও নিউ এইজ রয়েছেন।

একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাকে নিশ্চিত করেছে, এমপিওর জন্য অনুমোদন পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় এক হাজার ৬৫১টি স্কুল ও কলেজ আছে। মাদ্রাসা আছে ৫৫৭টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান ১৭৭টি, কৃষি প্রতিষ্ঠান ৬২টি এবং এইচএসসি বিএম প্রতিষ্ঠান ২৮৩টি। আর্থিক সংকটের কারণে শেষের ২৮৩টি বাদ দেয়া হয়েছিল। পরে অর্থের সংস্থান করে এমপিওভুক্তির তালিকায় আনা হয়েছে।

এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার)ভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানে বৈধভাবে এবং এমপিওনীতিমালায় অনুমোদিত পদে নিয়োগ পাওয়া সবাইকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা দেয়া হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের সমান এবং সামান্য কিছু চিকিৎসাভাতা ও বাড়ীভাড়া পান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ও বার্ষিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও পান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। প্রথমে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হয়, পরে আবেদন করলে সরকার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টায় নতুন এমপিও পাওয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ও তালিকা প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ উপলক্ষে আজ দুপুর ২টায় এ বিষয়ে দৈনিক শিক্ষার সম্পাদকসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক ও শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

জানা গেছে, স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিবারই তালিকায় নানাভাবে ভুলভ্রান্তি করা হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে।

ওই শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাবেক পিএস ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে বিঘ্নিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই কর্মকর্তা বারবার ভুল করেছেন।

এ কারণে চলতি মাসের শুরুর দিকে ওই কর্মকর্তার কাছে ভুলের বিষয়ে কৈফিয়ত চেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্তারা।

যদিও ওই কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সর্বশেষ ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের জুনে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর এমপিওভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে।

কিন্তু সরকার নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দিতে পারেনি। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে নয় বছর পর ফের নন-এমপিও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ীই এবারের এই এমপিও দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার রাতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলে তাদের এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু শিক্ষক নেতারা বলছেন, নীতিমালা অসঙ্গতিপূর্ণ। তারা এ তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

নেতারা মন্ত্রীকে বলেন, নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। সংশোধন না করে এমপিও দেয়া যাবে না। আর যদি এমপিও দিতেই হয় তাহলে স্বীকৃতিই একমাত্র মানদণ্ড ধরে শুধু স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে।

এই তারা এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় সোমবার তারা প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের দাবি করছেন।

ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট তারিখ না পেলে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। তবে, অনশনে অংশগ্রহণের জন্য লোক পাচ্ছেন না তারা।

ময়মনসিংহে লাগেজে মিলল হাত-পা ও মাথাবিহীন লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক – ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম ব্রিজের কাছে পুলিশের ঘিরে রাখা লাগেজ থেকে হাত-পা ও মাথাবিহীন একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা লাগেজটি খুলে এক পুরুষের হাত-পা ও মাথা ছাড়া দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করে।
হাত-পা ও মাথা কেটে অন্যত্র ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। লাগেজের ভেতরে পলিথিনে পেঁচিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেহাংশটি রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, পাটগুদাম ব্রিজের কাছে রোববার বেলা ১১টা থেকে লাল রঙের একটি বড় লাগেজ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশের এক ট্রাফিক কর্মকর্তাকে জানায়। পরে ওই ট্রাফিক কর্মকর্তা সন্ধ্যায় বিষয়টি জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাগেজটি বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখে এবং টেপ দিয়ে স্থানটি কর্ডন করা হয়।
রাতেই পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন এবং র‌্যাবের সিইও লে. কর্নেল এফতেখার উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, এটি একটি ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। দেহাংশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় ও দেহের অন্য অংশগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে।

জাপানে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক : জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতোর অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টোকিও পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।তাকে বহনকারী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কেনজিরো মনজা ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাশিদা খানম, তাঁর পুত্র রেজওয়ান আহমদ তৌফিক এমপি, মোহাম্মদ আফজাল হোসেন এমপি এবং বঙ্গভবন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর সফরসঙ্গী রয়েছেন।এর আগে,আট দিনের বিদেশ সফরে রাষ্ট্রপতি রোববার জাপানের উদ্দেশে রওয়ানা হন। তাকে বহনকারী ফ্লাইট দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটি রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তিন ঘণ্টা যাত্রা বিরতির পর রাষ্ট্রপতি আরেক ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জাপানের উদ্দেশে রওয়ানা হন।টোকিও পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি সোমবার দুপুরেই স্টেট হল অব ইম্পেরিয়েল প্লেস-এ জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকোর অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।সম্রাট নারুহিতোর (৫৯) বাবা আকিহিতোর সিংহাসন পরিত্যাগ করার পর মে মাসে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। বিগত দুই শতকে আকিহিতোই প্রথম সিংহাসন পরিত্যাগকারী সম্রাট। জাপানের ঐতিহ্য অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ১২৬তম সম্রাট।২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি হামিদ জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ইয়োকোহামা সফর করবেন। সেদিন টোকিওর হোটেল নিউ ওটানি-তে কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাওই দেখা করবেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে।পরে হোটেল নিউ ওটানিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আয়োজিত একটি ভোজসভায় অংশ নেবেন আবদুল হামিদ।দেশে ফেরার সময় রাষ্ট্রপতি দুই দিনের সফরে সিঙ্গাপুর যাবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর তিনি সিঙ্গাপুর সফর করবেন।২৭ অক্টোবর রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আত্মরক্ষার্থে ভোলায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বোরহানউদ্দিনে জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ কিংবা অন্য কারও দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

পুলিশের সঙ্গে রোববার ‘তৌহিদি জনতা’র সংঘর্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়া কেন্দ্র করে দিনভর এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত দুই ছাত্রসহ চারজন নিহত এবং ৩০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শেষে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে গুলি, টিয়ারশেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করার পর বিকেলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদরাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।