আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নুরুজ্জামান লিটন,জেলা প্রতিনিধি,নওগাঁঃ বিয়ে করার স্বপ্ন দেখিয়ে নওগাঁ জেলার মান্দায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে নিয়ে দু’পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের ক্ষোভে ওই স্কুলছাত্রী কামরুন নাহার হারপিক পান করে আত্মহত্যা করেন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনার আগে, গত ৬ ই ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কাঁশোপাড়া গ্রামে বাড়িতে হারপিক পান করেন ওই স্কুলছাত্রী। স্কুলছাত্রী কামরুন নাহার গ্রামের দিনমজুর শামছুর রহমান প্রামাণিকের মেয়ে এবং কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর অভিযুক্ত যুবক মুখলেছুর রহমান একই গ্রামের শফির তালুকদারের ছেলে।
তিনি একজন উদ্যোক্তা।

মৃত স্কুলছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্রী কামরুন নাহারের ভাই আব্দুল মালেককে চাকরি দেয়ার কথা বলে মুখলেছুর রহমান গত ৬-৭ মাস আগে ৫০ হাজার টাকা নেন। সে সময় গরু-ছাগল বিক্রি করে মুখলেছুর রহমানকে টাকাগুলো দিয়েছিল ওই মেয়ের পরিবার। এরপর থেকে মুখলেছুর রহমান তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে। কামরুন নাহার স্কুলে প্রাইভেট পড়তেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় কোচিংয়ের জন্য মুখলেছুর রহমান সাইকেলে করে তাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসতেন। তাদের মধ্যে এক সময় সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুখলেছুর রহমান বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক।

গত ১ লা অক্টেবার কামরুন নাহার প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় মুখলেছুর রহমান। পাঁচদিন পর মেয়ের পরিবার মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে ক্ষোভের বসে গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে বাড়িতে কামরুন নাহার হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পেরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ১১দিন পর তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকে মুখলেছুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

নিহতের বাবা শামছুর রহমান প্রামাণিকের অভিযোগ, আমার ছেলেকে চাকরি দিবে বলে মুখলেছুর রহমান ৫০ হাজার টাকা নেয়,এরপর থেকে সে আমার বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে সেটা আমরা বুঝতে পারিনি।সে নাকি আমার মেয়েকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘরে বিয়ে করেছে। সেখানে তারা কয়েকদিন সময়ও কাটিয়েছে। যদি বিয়ে করইে থাকবে, তাহলে মেয়েকে তার বাড়িতে কেন নিয়ে যায়নি। মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে তার সর্বনাশ করেছে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

মুখলেছুর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন বলেন, স্বামীর পরকিয়ার বিষয়টি জানার পর আমিও হারপিক পান করেবআত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। পরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আমাকে সুস্থ করা হয়েছে।

এইদিকে মুখলেছুর রহমানের মা মাকছুদা খাতুন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের পরিবার অভাবি হওয়ায় তাদের আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতাম। আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওই মেয়ে অন্যকোন কারণে আত্মহত্যা করেছে, যা আমার ছেলের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, মেয়ের বাবা অভিযোগ করেছিলেন উদ্যোক্তা মুখলেছুর রহমান তার মেয়েকে বিয়ে করেছে কিন্তু বাড়িতে তুলছে না। এছাড়া ওই মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে কখনো অবগত করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘর ওই উদ্যোক্তার জন্য বরাদ্দ ছিল। ওই ঘরে সবাই যেত। ওই ঘরে কখন অনৈতিক কাজ হয়েছে, সেটা তো বলতে পারব না।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, ঘটনায় মেয়ের বাবা বুধবার মুখলেছুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেছেন। রাজশাহীতে মারা যাওয়ায় সেখানে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top