আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আদিল হোসেন রাজশাহী :  ইঞ্জিনিয়ার তাপস কুমার সরকার। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখায় সহকারী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে কর্তব্যরত রয়েছেন। গোড়া আওয়ামী পরিবারের সন্তান তাপস।

তার পিতা মৃত অরুন কুমার সরকার ছিলেন নওগাঁ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার শ্রমীকলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহব্বায়ক।

সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকের সন্তান তাপস কুমার সরকারও ছাত্রজীবনে ছিলেন তুখর ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্র জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন পদমর্যাদায়।

তারপরও তাকে নিজ কর্মস্থল রুয়েটে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে তারই অধ্বস্তন সহকর্মী শাহানুল আলম সবুজের হাতে।

রুয়েটে নিজের অনিয়ম ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন সবুজ। যার প্রতিবাদ করেও মিলছে না সুবিচার।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার সময় মুঠোফোনে সাংবাদিককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুয়েটের সহকারী প্রকৌশলী তাপস কুমার সরকার। তিনি জানান, কোনো কারণ ছাড়াই শাহানুল আলম সবুজ (সাব এ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) গত শনিবার (৬ জুন) আমার অফিস কক্ষে ঢুকে গালি-গালাজ ও মিথ্যে চাঁদাবাজির তকমা লাগান।

এছাড়াও পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরীর জন্য তিনি বলেন- ‘রুয়েট কি তোর বাপের সম্পত্তি? সব কথায় কি তোর শুনতে হবে, কি পেয়েছিস তুই’। এঘটনার ভিডিও রেকর্ডও সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকৌশলী তাপস কুমার সরকার জানান, ‘মূলত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তার বিভিন্ন অপকর্মে সায় না দেওয়ার কারণে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরেই সে আমার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মিথ্যে দোষারোপ দিয়ে উল্টো তিনিই আমার কাছে চাঁদাবাজি করেন।

অথচ, তার সাথে আমার কোনো প্রকারের আর্থিক লেনদেন হয়নি। আমার কক্ষে সহকর্মী শাহানুর ইসলামের সামনে তিনি আমাকে কিল-ঘুষি ও গাল-মন্দ করেন এবং সেই সাথে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। তার চিৎকারে অন্যান্য স্টাফরা এসে তাকে থামালে আমি রেহায় পায়। ঘটনা শুনে ভিসি স্যার তার রুমে আমাদের ডেকে পাঠান।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবুজ ভিসি স্যারের সামনে গিয়েও বিভ্রান্তির স্বরে টাকার দাবী করে। সে কখনও বলে টাকা ধার দিয়েছি, আবার কখনও বলে আমার কাছে তাপস চাঁদাবাজি করছিলো।

স্যার তাকে প্রশ্ন করেন, কোথায়, কখন ও কত টাকা দিয়েছো? তার উত্তরে সবুজ পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পায় বলে দাবী জানায়। তার দাবীর প্রেক্ষিতে ভিসি স্যার আমাকে তার টাকা পরিশোধ করতে বললে আমি সেটিও দিয়ে দেয়।

কিন্তু ওই ঘটনার পরিসমাপ্তি হতে না হতেই বুধবার (১০ জুন) সকাল ৬টার দিকে শিক্ষদের আসাসিক (এ-২) কোয়াটারে কিছু বহিরাগত ভারাটে মাস্তান দ্বারা আবারো হামলা চালায়।

বর্তমানে এসকল বিষয়ে আমি ও আমার ফ্যামিলি খুব আতঙ্কের মধ্যে জীবন-যাপন করছি। এমন পরিস্থিতির কারণে ভিসি স্যার আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে কয়েকদিন ছুটিতে থাকতে বলেন ও বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

সহকারী প্রকৌশলী তাপস কুমার লাঞ্ছিতের ঘটনা ও শিক্ষকদের আবাসিক কোয়াটারে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. ফারুক হোসেন বলছেন, গত বুধবার (১০ জুন) সকাল ৬টার দিকে তিনটি মোটর সাইকেলে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী রুয়েটে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তারা গেটের বাইরে থেকেই রাস্তায় পড়ে থাকা ইট-পাথর দিয়ে কোয়াটারে আঘাত করে।

যার কারণে কোয়াটারের তিন-চার তলায় জানালা, পাইপ ও ঘরের বেশকিছু আসবাবের ক্ষতি হয়। এছাড়াও তাদের আক্রমণে কোয়াটারে  বসবাসকারী মহিলা ও শিশুরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যার রেশ এখনো কাটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার পরপরই সেদিন মতিহার থানায় একটি জিডি করা হয়। সেই সাথে শিক্ষক সমিতির জরুরী মিটিংয়ের আহব্বান করে শিক্ষক কোয়াটারে বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলা ও সহকারী প্রকৌশলী তাপস কুমার সরকারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ আকারে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, ‘তাপসের সাথে ধার-দেনা নিয়ে সমস্যা হয়েছিলো সেটা সেই দিনই ভিসি স্যার বসে  লিখিতভাবে সমাধান করে দিয়েছেন। এরপর থেকে আমাদের মধ্যে আর কোনো সমস্যা নেই।’

শিক্ষক কোয়াটারে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই বিষয়ে আমি একেবারেই জানা নেই।’

এবিষয়ে মতিহার থানার ওসি বলেন, রুয়েটে প্রকৌশলী লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোনো প্রকার মামলা হয়নি। তবে শিক্ষক কোয়াটারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়াও, ওই ঘটনার পর থেকে রুয়েটে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেই সাথে ঘটনাটি নিয়ে জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ঘটনাটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও তাদের ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রুয়েট ক্যাম্পাসের জন্য সম্মানহানিকর।

সবুজের এমন আচরণ মোটেও কাম্য নয়। ঘটনাটি জানার পরপরই তাদের ডেকে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও শিক্ষক কোয়াটারে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি একেবারেই মেনে নেওয়ার মত নয়।

তিনি জানান, এবিষয়ে মতিহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দোষী ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়াও এমন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top