আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

স্টাফ রিপোর্টাার : রাজশাহী নগরীর উন্নয়নে তৈরী হচ্ছে আলুপট্টি থেকে তালাইমারী পর্যন্ত মহাসড়ক। এই উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মেয়র বুলবুলের আমলে প্রধান প্রকৌশলীর পিএ গোলাম হোসেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নগরীতে মাষ্টার প্লান ভঙ্গ করে মৃত্যুকুপের ন্যায় রাস্তা তৈরীতে চাপ প্রয়োগ ও দেনদরবার করছেন অবসরপ্রাপ্ত বিএনপি আমলের সেই সাবেক পিএ।

সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার সময় এলাকারবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালাইমারী শহীদমিনার নিবাসী মো. শরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত রবিবার (৩ জুন) নগরের তালাইমারী থেকে আলুপট্টি পর্যন্ত সড়কের জমির রাস্তা প্রশস্তকরণে ২৪/২০১৬-২০১৭ নং এল. এ. কেস মূল অধীগ্রহনকৃত সম্পত্তির দখলমুক্তকরণের জন্য রাজশাহী জেলা প্রসাশকের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরের তালাইমারি থেকে আলুপট্টি পর্যন্ত সড়ক এর জমির রাস্তা প্রশস্তকরণে ২৪/২০১৬-২০১৭ নং এল. এ. কেস মূল অধীগ্রহন করা হয়েছে।

উক্ত এল. এ. কেস মুলে অধিগ্রহণ করা অংশে সি পার্টে অবস্থিত তালাইমারী শহীদমিনারে মৃত নেকাব্বর শাহ ওরফে নেফার শেখের বাড়ীর অংশবিশেষ রয়েছে।

যা বর্তমানে নেফার শেখের সন্তান গোলাম হোসেনের নামে রয়েছে। গোলাম হোসেন ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরশেনের প্রধান প্রকৌশলীর সাবেক পিএ। তিনি তার কর্মক্ষেত্রের প্রভাববলে অধিগ্রহণকৃত তার বাড়ির অংশবিশেষ ভাঙতে দিবেন না মর্মে বলে বেড়াচ্ছেন।’

সূত্রে আরো উল্লেখ রয়েছে, ‘রাস্তা বাঁকা হলে হোক, কিন্তু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব লোক হিসেবে এটি তার অধিকার।

পূর্বে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় আমিন রাস্তা মেপে তার বাড়ির সীমানা চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও তিনি তা এখন অস্বীকার করেছেন।’

এক্ষেত্রে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর দাবী, ‘সরকার বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে রাস্তার উন্নয়ন করছেন প্রশস্ত, সুন্দর ও সুবিধার জন্য; কোনো বিশেষ ব্যক্তির সুবিধার দিকে তাকিয়ে রাস্তাটিতে বাঁক তৈরী করে মৃত্যুকুপ বানানোর জন্য নয়।

তারা বলেন, রাসিকের সার্ভেয়ার এবিষয়ে কথা বলার জন্য আসলেও তাদের অপমানিত করে বিতাড়িত করেন গোলাম হোসেন। সেক্ষেত্রে এখানে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জায়গাটি দখল করে রাখা হয়েছে এবং সরকারী কাজে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

তাই, যত দ্রæত সম্ভব এই রাস্তাটি সঠিকভাবে প্রশস্তকরণের স্বার্থে রাসিক ও জেলা প্রশাসনের সম্বনয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এটি এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী।’

এদিকে বাড়ির মালিক গোলাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার পক্ষ থেকে তার সন্তান গোলাম খোরশিদ লিমন ফোন ধরেন। তিনি জানান, ‘সরকার তাদের জায়গা অধিগ্রহণ করেছে ২৩৪ শতাংশ।

কিন্তু সেখানে প্রায় ৩৫০ শতাংশ জায়গা অধিগ্রহণ হিসেবে নিতে চাচ্ছে রাসিক। যা ১০০ শতাংশেরও বেশী জায়গা নিচ্ছে আর্থিকভাবে অধিগ্রহণ ছাড়াই। যা নিয়মের মধ্যে পড়ে না।’

তিনি আরো জানান, ‘এবিষয়ে রাসিক ও ডিসি অফিসে একটি করে অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এব্যাপারে বাড়ি ভাঙ্গার কোনো প্রশ্ন আসে না।’

সরজমিনে পরিদর্শন করা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়ার লিটনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

তবে এবিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার জানান, যেহেতু রাস্তা নির্মাণের জমিগুলো ডিসি অফিস কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত এবং বিষয়টিতে যেহেতু এলাকাবাসী ও বাড়ীর মালিক উভয়ের অভিযোগ রয়েছে সেহেতু এখানে ডিসি অফিস, রাসিকের ও পিডাউবিউডি-এর যৌথ সার্ভেয়ার দ্বারা ভূমির পূণরায় পরিমাপের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি নিষ্পত্তি সম্ভব নয় বলে জানান রাসিক প্রধান প্রকৌশলী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, নগরীর উন্নয়নে আলুপট্টি থেকে তালাইমারী পর্যন্ত যে রাস্তাটি তৈরী হচ্ছে তাতে ডিসি অফিস থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জায়গা বুঝে নিবে। সেটি যদি তারা না বুঝে নেয় সেক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার-ই কথা।

বিষয়টি জটিল, তাই কাগজাদি না দেখে এবিষয়ে এখন বলা সম্ভব নয়। এলাকাবাসী ও বাড়ির মালিকের অভিযোগ আমলে রেখে সঠিক তথ্য প্রমাণ নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানান তিনি।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top