আজ সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

  • বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • দুই সিটির ৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’
  • কলঙ্ক মুছতে সুষ্ঠু ভোটের চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের
  • শেষ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বিতর্ক
  • ইভিএম মেশিনে সমস্যা হলে বিকল্প রিজার্ভ মেশিন
  • প্রিসাইডিং অফিসাররা ট্যাবের মাধ্যমে বিকালে কমিশনে ফলাফল পাঠাবে এরপর চূড়ান্ত ঘোষণা

পুরো দুনিয়ার চোখ এখন ঢাকায়। মুকুট পরবে নগরপিতা। ভোট আজ ইতিহাস রেকর্ডের। এবারই প্রথম কাগজ ভাঁজের পরিবর্তে বোতামের টিপে হবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ভোট হবে ইভিএমে।

আগের রাতে কেন্দ্র দখল করে সিল মারার অতীত সুযোগ নেই এবার। ভোট প্রয়োগের সুযোগ থাকবে সবার। এই ভোটে তরুণদের দৃষ্টি অন্যদের চেয়ে একটু বেশি।

তাই স্থানীয় ভোট জাতীয় নির্বাচনের আমেজে রূপ নিয়েছে। ভোট প্রচারণার মাঠে কিছুদিন যাবত বিশৃঙ্খলা ঘটলেও তবু সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভোটারদের সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত হাতে দমনের ঘোষণাও দেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পর আজকেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল নৌকা ও ধানের শীষে লড়াই হচ্ছে। দলীয় প্রতীক নিয়েই মুখোমুখি হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

আওয়ামী লীগ তাদের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের দিন তারা ভোটকেন্দ্রের আশপাশে থাকবে বলে জানা গেছে।

আর বিএনপি আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে, বন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে এবং ইসির শেষ পরীক্ষা বলেও দাবি করেছেন তারা। কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে হুঁশিয়ারি দেয় দলটি।

প্রচারণাকালে সব দলই তাদের জনপ্রিয়তা ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছে। তবে এ ভোট নির্বাচন কমিশনের কলঙ্ক মুছতে সুষ্ঠু ভোটের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে আজ মধ্য রাত পর্যন্ত নৌচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের স্টিকার ছাড়া রাজধানীতে অন্য যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এর আগে।

নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ভোটের আগে হঠাৎ ঢাকায় কর্মরত পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিষেধাজ্ঞা আসায় অনেকে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।

সরকারবিরোধী প্রার্থীদের মন্তব্য ছিলো এমন— ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখলের জন্য ঢাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন। এতে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তারা শঙ্কিত।

তবে যদি কেউ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে তাহলে তারাও তা প্রতিহত করে ভোটকেন্দ্রকে সুরক্ষিত রেখে পাহারা দেয়ার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন আহ্বান করেছেন, সুষ্ঠু ভোটের জন্য ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছেন। ইভিএমে ভোট দিয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দুই হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৫৯৭টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এসব কেন্দ্রে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঢাকা দুই সিটিতে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। মোট ভোটার রয়েছেন ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন।

আটটি করে মোট ১৬টি ভেন্যু থেকে গতকাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কপোরেশনের দুই হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ শেষ হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় গতকাল থেকেই মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য।

ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণের এক হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২১টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা সদস্য বাড়বে ও আমাদেরও সতর্ক দৃষ্টি থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন আরও বলেন, সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে ১৮ জন করে। ভোটারদের জন্য ঢাকা শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

আমার মনে হয়, আগামীকাল (আজ) আমাদের ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন, কোনো রকম অসুবিধা হবে না। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, সবাই যেন ভোট দিতে আসেন। ঢাকা শহরে এটাই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। ইয়াং জেনারেশন ডিজিটাল পদ্ধতি পছন্দ করে।

এই কারণে আমি ইয়াং জেনারেশনকে বলবো, সকালেই যেন তারা ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে যেন ভোট দেন। রিটার্নিং অফিসার বাতেন বলেন, ভোট শুরুর আগে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ইভিএম মেশিনে যে ‘শূন্য’ ভোট রয়েছে তা দেখানো হবে। কোনো ইভিএম মেশিনে সমস্যা দেখা দিলে রিজার্ভ মেশিন ব্যবহার করা হবে।

ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন— এই আশ্বাস দিয়ে বাতেন বলেন, ভোট শেষে প্রিসাইডিং অফিসাররা ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফলাফল পাঠিয়ে দেবেন। পরে কেন্দ্রীয়ভাবে তা ঘোষণা করা হবে।

উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজ থেকে ভোটের সামগ্রী বিতরণ করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, এই সিটির এক হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি কেন্দ্রই ‘গুরুত্বপূর্ণ’; বাকি ৪৪২টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আবুল কাসেম বলেন, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসবটাকে কোনোভাবেই মলিন হতে দেবো না। ভোটারদের বলবো, কোনো রকম ভয়-ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ইভিএমে ভোটদানের ব্যাপারে আমাদের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা তারা করবে। ইভিএমে ভোট দিয়ে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, এই আহ্বান আমি ভোটারদের প্রতি জানাই।

সিইসি হুদা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা বারবার বলেছি, তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বারবার বলেছি, সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা দায়িত্ব পালন করবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, তাদেরও সেরকম ইনস্ট্রাকশন দেয়া আছে।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন কি না— এই প্রশ্নে সিইসি বলেন, এটা আমি বলতে পারবো না। আস্থা-অনাস্থা তাদের মানসিকাতার ওপর, কে কীভাবে দেখে, সেটার ওপর। আমরা কখনো কোনো পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করি নাই, করবোও না।

নূরুল হুদা বলেন, দেখেন এই দেশে নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনোদিনও সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ছিলো- তা আমি দেখি নাই। সুতরাং একদল যারা ক্ষমতায় থাকবেন তাদের এক ধরনের বক্তব্য থাকবে, আবার যারা বাইরে থাকবেন তাদের কখনো আস্থা আসবে না নির্বাচন কমিশনের ওপর, এরকম একটা পলিটিক্যাল কালচার হয়ে আসছে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে মত দিয়ে সিইসি বলেন, তাদেরই দেখতে হবে কতখানি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন, এখানে আমার বলার কিছু নেই।

এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এটা এখন তারা মনে করে না বলে আমি মনে করি। নির্বাচন যখনই প্রতিযোগিতামূলক হয়, ভোটাররা বের হয়ে আসে।

ভোট সামনে রেখে ‘জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের’ ঢাকায় জড়ো করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ আওয়ামী লীগের রয়েছে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ কোনো নির্দেশনা ইসির আছে কি না, সেই প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক।

জবাবে সিইসি বলেন, এরকম বিশেষভাবে আমরা বলিনি। কে কোন দলের সেটা বড় কথা না। তবে সন্ত্রাসী যদি ভেতরে ঢোকে অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তবে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা দেখবে।

ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন জানান, প্রায় আড়াই হাজার কেন্দ্রের জন্য ভোট কক্ষভিত্তিক ইভিএম প্রস্তুত করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩৫ হাজারের মতো ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ভোট কক্ষে মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের জন্য ইভিএমের ব্যালট ইউনিট থাকবে। কোনো ধরনের ঝামেলা বা ত্রুটি দেখা দিলে স্বল্প সময়ে অন্য ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকছে।

সে জন্য অতিরিক্ত ইভিএম থাকবে কেন্দ্রে। ইভিএমে ভোটদান পদ্ধতি ‘খুবই সহজ’ মন্তব্য করে এ কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল অডিট ট্রায়ালের মাধ্যমে ভোটারদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যালট ইস্যু করা হবে। প্রতি ভোটকক্ষে গড়ে ৪০০ ভোটার থাকবেন। এক মিনিটেরও কম সময়ে ভোট দিতে পারবেন তারা।

দূতাবাসের বাংলাদেশি স্টাফদের ভোটকেন্দ্রে পাঠাবেন না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দূতাবাসের বাংলাদেশি স্টাফদের ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক’ বানিয়ে বিদেশি মিশনগুলো আইন ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

এ অবস্থায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনুমতি পাওয়া দূতাবাসগুলোর স্টাফদের ভোটকেন্দ্রে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদিও পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। তারপরও এখানে মিশনগুলোর দায়-দায়িত্ব রয়েছে। তারা বাংলাদেশের আইন জানেন।

সরকারের তরফেও তাদের বিদ্যমান আইনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং এখন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা তাদের যেসব বাংলাদেশি কর্মচারীকে ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক’ বানিয়েছেন, তাদের অবশ্যই সেন্টারে পাঠানো উচিত হবে না।

বাংলাদেশে থাকা কূটনীতিকদের সর্বাবস্থায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দায়বদ্ধতা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দূতাবাসগুলোর পর্যবেক্ষণ টিমে থাকা ৪৬ বিদেশির সঙ্গে তাদের সহায়ক হিসেবে ২৮ জন বাংলাদেশির (প্রত্যেকের) আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সময়ে তাদের থামানো যায় কিনা এমন প্রশ্নও আসে।

তবে সব প্রশ্নকে ছাড়িয়ে যে বিষয়টি প্রধান্য পায় তা হলো আইনি বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের কীভাবে ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ হলো? জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি আমি জানি না। তবে আমরা মনে করি, এখানে যেসব বিদেশি সংস্থা বা দূতাবাস আছে তারা তাদের কোড অব কনডাক্ট জানে।

আইন মতে, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক যারা হন তারা কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন না। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষককে অবশ্যই অ-বাংলাদেশি হতে হয়।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখানে বিদেশি দূতাবাসগুলো তাদের বাংলাদেশি কর্মচারীদের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এতে আইন ভঙ্গ হয়েছে। আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হওয়ার শর্ত অবশ্যই ‘বিদেশি নাগরিক’ হতে হবে— এমনটা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, দূতাবাসগুলো বিদেশি নাগরিককে এনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বানাক, এতে কারো কোনো আপত্তি নেই।

অথবা বাংলাদেশিদের তারা ‘আভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক’ বলুক, এতেও কোনো সমস্যা নেই। দূতাবাস প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূতরা বড় রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সঙ্গে আলাপেও কোনো বাধা নেই। কিন্তু তারা কোনো অবস্থাতেই আমাদের সিস্টেম, আইন এবং নিয়ম-নীতিমালা ভঙ্গ করতে পারে না।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিদেশি কূটনীতিকরা যেভাবে বিভিন্ন প্রার্থীর বাড়িতে যাতায়াত করেছেন, তা কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি জানানো বিদেশি কূটনীতিকদের কাজ নয়। এতে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূতদের ‘কেন্দ্র দখলের শঙ্কা’ জানিয়েছেন ইশরাক
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে ‘ইভিএমে কারচুপি ও ভোটকেন্দ্র দখলের’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। গুলশানের একটি বিদেশি রেস্তোরাঁয় শুক্রবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর বার্ন্ট ওরিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক হয় ধানের শীষের প্রার্থীর।

পরে সাংবাদিকদের ইশরাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মত জানতে বৈঠকে এসেছেন। ভোটের দিনে কি কি শঙ্কা আছে তা তিনি জানতে চেয়েছেন।

‘আমি ইভিএমের বিষয়টা বলেছি এবং ঢাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন জেলায় কমিটি করে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের জড়ো করা হচ্ছে ঢাকায়, কেন্দ্র দখলের একটা পাঁয়তারা হচ্ছে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।’

কয়েকদিন আগে গোপীবাগে ‘নির্বাচনি প্রচারণার মিছিলের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার’ বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেছেন বলে তিনি জানান। নিজের নির্বাচনি এলাকায় ‘প্রায় সাড়ে ৩০০’ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেটা ৪০০ হতে পারে বলে তিনি জানান।

ভোটের দিনটা কেমন যাবে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বেশিরভাগ জরিপগুলোতে ধানের শীষ ৮০ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছে। তা দেখে সরকারি দল হয়তো ‘জোর-জবরদস্তি করে কেন্দ্র দখল করার’ চেষ্টা করবে। আমাদের যে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা ওরা রুখতে চাচ্ছে।

আমি বলতে চাই, এবার কিন্তু দখলদারিত্ব মেনে নেয়া হবে না, ভোটাররা মেনে নেবে না। আমরা কেন্দ্র পাহারা দেবো, দখলমুক্ত করে ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করবো।’

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জরিপে আস্থা আতিকুলের
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় যে জরিপ করেছেন, তাতে বিশ্বাস করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে প্রচারে অংশ নিয়ে যা দেখেছি, জরিপের ফলের সঙ্গে তা মিলে গেছে।’ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীদের বিপুল জয় হবে। নিজের করা জরিপের ওপর ভিত্তি করে এ কথা জানান সজীব ওয়াজেদ জয়। তার ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে গত বৃহস্পতিবার এই জরিপের ফল তুলে ধরেন জয়।

জয় পরিচালিত জরিপের ফল হলো, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে আছেন ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে সমর্থন আছে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটারের।

এই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পক্ষে সমর্থন আছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জরিপটি দেখেছি। আমরা গত ১০ তারিখ থেকে নির্বাচনি গণসংযোগ ও প্রচার করেছি। সেখানে দল-মত নির্বিশেষে সবার উপস্থিতি ছিলো। মা-বোনেরা বিজয় সূচক চিহ্ন (ভি সাইন) দেখিয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে প্রচারে অংশ নিয়ে যা দেখেছি আর তরুণদের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জরিপ মিলে গেছে।

জয় জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠছেন —মন্তব্য ফখরুলের
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে রাজ জ্যোতিষী হিসেবে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে কি না, তা বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেছেন তিনি। ফখরুল অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই জয় এসব কথা বলছেন।

এর মাধ্যমে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপে ফেলা হচ্ছে। বৈঠকের বিষয়ে ফখরুল বলেন, ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি জানতে মেয়রপ্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। ভোটের পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। ভোটাররা যেন কেন্দ্রে না যায়, এটাই সরকারের চাওয়া।

সরকার এ জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে করে নিয়েছে। একের পর এক নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ অনুমতি ছাড়াই এত বড় একটা সমাবেশ করলো।

নির্বাচন কমিশনার শুধু বললেন, তাদের সভা করা উচিত হয়নি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। তবে ফখরুল আশা করেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। আর জনগণ ভোট দিতে পারলে তাবিথ আউয়াল বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

এ সময় তাবিথ আউয়াল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন, কেন্দ্রের আশপাশ তারা পাহারা দেবেন। কেন্দ্র দখলে রাখবেন। এর মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপির এই মেয়রপ্রার্থী আশা করেন, ভোটাররা সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সিটি কলেজে প্রধানমন্ত্রী, মেয়রপ্রার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সকাল ৮টায় তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসং উইংয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ধানমন্ডির ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ভোট দেবেন গোপীবাগ শহীদ শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন লালবাগের আমলিগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টার মধ্যে ভোট দেবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম সকাল ৮টার দিকে উত্তরার নওয়াব হাবিবুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেবেন।

বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল সকাল ৮টায় গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যশনাল স্কুলে ভোট দেবেন। সিপিবির মেয়রপ্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল মিরপুরে আদর্শ স্কুলে বেলা ১১টায় ভোট দেবেন।

রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৮-৯টার মধ্যে ভোট দেবেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ভোট দেবেন ভিকারুননিসা স্কুল কেন্দ্রে। অন্যতম শীর্ষনেতা মাহামুদুর রহমান মান্না বনানী বিদ্যানিকেতন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ধানমন্ডি কাকলী স্কুল, অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলে ভোট দেবেন।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top