আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৮ অপরাহ্

শিরোনাম

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ জার্মানির সাপ্তাহিকী স্পাইগেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ক্ষমতা ইউরোপীয়দের নেই। ইউরোপের পক্ষ থেকে আমেরিকার একনিষ্ঠ আনুগত্য বিপর্যয়কর।

পরমাণু সমস্যা সমাধানে তিন ইউরোপীয় দেশ জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ‘মশে’ নামক ম্যাকানিজম চালু করার যে হুমকি দিয়েছে সে সম্পর্কে জারিফ বলেন, এই ম্যাকানিজম চালু করার মতো কোনো আইনি দলিল ইউরোপীয়দের হাতে নেই। এমনকি চীন ও রাশিয়াও এ ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে একমত পোষণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ইউরোপীয়দের উচিত অনেক বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়া

ইউরোপ ‘মশে’ নামক ম্যাকানিজম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের ফিরে গিয়ে ফের ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নে ইরানকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার পরও এবং ইউরোপ আমেরিকার এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও এক বছর ধরে ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে।

ইরান বহুবার বলেছে, তারা পরমাণু সমঝোতা ঠিক মত মেনে চলছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ও ইউরোপীয় দেশগুলোও বিভিন্ন সময়ে তা স্বীকার করেছে।

জিওপলিটিকের অধ্যাপক আব্দুর রেজা ফারজিরাদ মনে করেন, ইউরোপ ‘মশে’ নামক ম্যাকানিজম চালুর যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার অর্থ হচ্ছে ইরানের বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা এবং দেশটির বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নয় বরং ইউরোপীয়রা চায় ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা ও চুক্তিতে উপনীত হতে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে পরমাণু সমঝোতা বাতিল করে নতুন করে ইরানের সঙ্গে ‘ট্রাম্প চুক্তি’ করার যে দাবি জানিয়েছেন তা থেকেই তাদের উদ্দেশ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

বর্তমানে ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে আমেরিকার কাতারে গিয়ে শামিল হয়েছে একইসঙ্গে তারা ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ারও আশঙ্কা করছে। যদিও ইরান কখনোই প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয়নি এবং দেবেও না তবে দেশটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার অধিকার রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, তেহরান এনপিটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যে হুমকি দিয়েছে তার অর্থ এটা নয় যে আমরা পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top