আজ সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

স্পোর্টস ডেস্ক :

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ১৯টি বছর পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে খেলে ফেলেছে ১১৭টি টেস্ট ম্যাচ। এত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের পরও বাংলাদেশ এই ফরম্যাটে এখনও শিখছে। শেখার শেষ নেই। কিন্তু সেই শেখাটা যদি একেবারেই প্রি-প্রাইমারি কিংবা প্রাইমারি পর্যায়ে থাকে, তখন সেটা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয় বেশি।

ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ইন্দোরের পর কলকাতায়- দুই টেস্টেই বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয়। নিঃসন্দেহে ভারত টেস্টের এক নম্বর দল। ঘরের মাঠে তারা বেশ ভয়ঙ্করও বটে। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে।

কিন্তু ভারতের কন্ডিশন তো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পরিচিত। সেখানে পরিবেশের সঙ্গে আলাদাভাবে খাপ খাওয়ানোর প্রশ্নই ছিল না। এমন একটি পরিবেশে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করার কথা। কিন্তু না, উল্টো যাচ্ছেতাই অবস্থা।

ইন্দোরে প্রথম টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অলআউট মাত্র ১৫০ রানে। ভারতের করা ৪৯৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে অলআউট হয়ে পরাজিত হলো এক ইনিংস ও ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফ্লাড লাইটের আলোয় গোলাপি বলে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল হক। কিন্তু ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ১০৬ রানে। ভারতীয় পেসারদের বাউন্সের আঘাতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস এবং নাঈম হাসান।

জবাবে ভারত ৩৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ২৪১ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট ১৯৫ রানে। এখানেও পরাজয় এক ইনিংস ও ৪৬ রানের।

এমন বাজেভাবে পরাজয়ের পর অধিনায়ক মুমিনুল হকের কণ্ঠে সেই চিরাচরিত কথা, আমরা শিখছি। বাংলাদেশের প্রায় সব অধিনায়কই একই কথা বলে গেছেন আগে। যার ব্যতিক্রম হয়নি সদ্যই টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাওয়া মুমিনুল হকের ক্ষেত্রেও।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জানালেন শেখার কথা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দুই দলের মধ্যে অনেক ব্যবধান। এ দুটি ম্যাচ থেকে আমাদের শিখতে হবে এবং ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে।’

প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্টে গোলাপি বলে খেলাকে চ্যালেঞ্জই মনে করছেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘গোলাপি নতুন বলটা চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। আমরা সেই গোলাপি নতুন বলের চ্যালেঞ্জটা নিতে পারিনি।’

যদিও মুমিনুল হারের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যা দেখছেন না। হারতেই পারে যে কোনো দল। তবে, এত হতাশার মধ্যে কিছু ইতিবাচক ব্যাপারও তার চোখে পড়েছে। মুমিনুল বলেন, ‘হারলে সমস্যা নেই; কিন্তু কিছু ইতিবাচক ব্যাপার আছে। এবাদত ভালো বল করেছে। রিয়াদ ভাই ও মুশফিক ভাই ভালো ব্যাট করেছে।’

ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টেই টস জিতেছেন মুমিনুল হক। দু’বারই প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আজ ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের প্রশ্ন ছিল, দুই টেস্টেই আগে ব্যাট করার কি কারণ? মুমিনুল সোজা বলে দিলেন, পরে ব্যাট করলেও একই ঘটনাই (ব্যাটিং বিপর্যয়) ঘটত। তার ভাষায়, ‘উইকেট দেখে শুকনো মনে হয়েছিল। আর পরে ব্যাট করলে একই ব্যাপারই ঘটত। পরে ব্যাট করলে আলাদা কিছু ঘটত বলে আমি মনে করি না।’

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top