আজ সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নিধন অভিযানের দায়ে এবার আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবে মিয়ানমার। গণহত্যার অভিযোগ এনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) সদস্য গাম্বিয়া সোমবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার আফ্রিকার মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ৪৬ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে।

গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বকর তাম্বাদোউ সংবাদ সম্মেলনে আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলাটি গ্রহণ করার খবর এখনো নিশ্চিত করেনি ‘বিশ্ব আদালত’ নামে পরিচিত আইসিজে। মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলো গাম্বিয়ার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

এই মামলায় গাম্বিয়াকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফোলে হোয়াগ। প্রতিষ্ঠানটির আশা, আগামী মাসেই এই মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে মিয়ানমার।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিজের সদর দফতরে মামলা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় এইমাত্র অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার যে আচরণ করেছে তার জন্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নিপীড়নের বিচার চেয়ে আসা দেশটির আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে গণহত্যা ঘটবে আর আমরা তা দেখেও কিছু না করলে আমাদের প্রজন্মের জন্য তা খুবই লজ্জার ব্যাপার হবে।’ গাম্বিয়ার এই পদক্ষেপে সমর্থন দিচ্ছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইসিজে মামলাটি গ্রহণ করে তাহলে তা হবে একটি মাইলফলক। কেননা এর আগে গণহত্যা সংক্রান্ত কোনো মামলার তদন্ত আইসিজে একা করেনি। প্রতিবার তদন্তকাজে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সহায়তা নিয়েছিল ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের প্রধান এই বিচারিক প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে, ধর্ষণ ও হত্যা করে জাতিগত নিধন অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। তারা এখনো তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে পারেনি।

গোটা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ জানালেও মিয়ানমানের সঙ্গে ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি জোরালো হয়নি। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন (সত্যানুসন্ধানী দল) তদন্ত শেষে বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিত গণহত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর এই নিধন অভিযান চালায়।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top