আজ শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:২২ অপরাহ্

শিরোনাম

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি :

কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত ছাত্র নির্যাতন নিয়ে আহত ও নির্যাতিত ছাত্রদের জবানবন্দি উঠে আসছিল।

তথ্য এসেছে হলে অবস্থানরত অবৈধ ছাত্ররাই বিভিন্ন সময় ছাত্রদের ওপর নির্যাতন, তাদের টাকা ছিনতাই, এটিএম কার্ড ছিনতাই করে বুথ থেকে টাকা উঠানোসহ নানা ধরণের অপরাধে লিপ্ত।

তারা হলের ডাইনিংয়ে ছাত্ররা যে টাকা দেয় সে টাকাও পরিশোধ করেন না। খাবার সময় যান, গিয়ে ফ্রি খেয়ে আসেন। চলতি মাসে পরীক্ষা চলাকালীন আবু বকর (রাঃ) হলের গেস্ট মিল ম্যানেজার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে কিছু ছাত্র হলের ডাইনিংয়ে নিয়মিত খান কিন্ত তারা কখনোই বিল পরিশোধ করেন না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার একরাত তাদের খাবারও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ম্যানেজারের সাথে কথা বলে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে হলে দায়িত্বরত একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে উনি বলেন : “মাঝে মাঝে ম্যানেজাররা এরকম কিছু অভিযোগ জানিয়েছে, কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিতে অক্ষম।”

অবৈধভাবে হল থেকে, হলের ডাইনিংয়ে কোন প্রকার টাকা জমা না দিয়ে যারা বিশ্ববিদ্যালয় হল জীবন পার করছেন তারা আসলে কেমন রাজনীতি করেন আমাদের বুঝে আসেনা!

আমরা মনে করি, এখানে ক্ষমতাশীল দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত। কেননা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে IIUC ছাত্রলীগের জন্য না আছে কমিটি না আছে কোন দলীয় নির্দেশনা। নিজেরাই ছাত্রলীগ দাবি করে জিম্মি করে রেখেছে আবাসিক হলগুলো।

কর্তৃপক্ষ সব জেনেও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে কিছু বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত।

১. সম্প্রতি IIUC হল ম্যানেজমেন্ট কমিটি অবৈধভাবে হলে অবস্থানরত ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। ছবিতে উল্লেখিত ছাত্রদের কেউই আবাসিক হলের রেজিস্টার্ড ছাত্র না। একদিকে IIUC হল কর্তৃপক্ষ বলছে হলের অভিযোগগুলোর ব্যাপারে তারা অবগত হলেও ব্যবস্থা নিতে অপারগ। তাহলে তারা যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিলেন তা কাদের উদ্দেশ্যে? এতে কি কতিপয় ছাত্রনেতারা সাধারণ ছাত্রদের উপর সিটের রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে না?

২. হলের অনিয়ম, চাঁদাবাজি যদি হল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করতে না পারেন তাহলে হল প্রভোস্ট পদবীধারীরা কি করছেন? ছাত্রনেতাদের কাছে কি তবে হল প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর নামক শিক্ষকরা পরাস্ত নন?

৩. সাধারণ ছাত্রদের টিউশন ফি’র টাকায় ভর্তুকি দিয়ে অথরিটি অবৈধভাবে হল দখল করা ছাত্রদের কেন পুষছেন? সাধারণ ছাত্রদের টাকা কি তবে চাঁদাবাজ লালনের কাজে ব্যবহার করছে প্রশাসন?

৪. একজন ছাত্র কিভাবে একা একটি রুম কিংবা একাধিক রুম দখল করে থাকতে পারেন?

৫. হল কো-অর্ডিনেটর, স্টুডেন্ট কো-অর্ডিনেটর নামে কি রেজিস্ট্রার অফিস বা হল ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে কোন পদ বরাদ্দ আছে? না থাকলে এরা কারা হল দখল করে সাধারণ ছাত্রদের মিলের টাকা নিয়ে চাঁদাবাজি করছে?

৬. বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কেন এসব অনিয়মের ব্যাপারে নির্বিকার? প্রক্টরিয়াল বডি কি সন্ত্রাসীদের লেজুড়বৃত্তি করছে নাকি তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে৷ কেন সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন টর্চার সেল আছে কি নেই সে ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেনি?

সাধারণ ছাত্রদের কষ্টের টিউশন ফি নিয়ে এভাবে ভর্তুকির পর ভর্তুকি দিয়ে কমিটিহীন চাঁদাবাজদের লালন করার দায় IIUC প্রশাসন এড়াতে পারে না। নামের আগে ইসলামিক ট্যাগ লাগিয়ে এসব অবৈধপনার ব্যাপারে অথরিটির সঠিক জবাবদিহি চায় সাধারণ ছাত্ররা৷

* ছবিতে অবৈধভাবে হল দখলকারী ছাত্রদের পরিচয়। যাদের অনেকের ছাত্রজীবন শেষ, চাকরি করছেন তবুও হল দখল করে আছেন।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top