শিরোনাম
  সাংবাদিক মোত্তালিব সরকারের পিতার ইন্তেকাল!       রাজশাহীতে করোনায় আক্রান্ত ২০০, সুস্থ ৫৩       বদলগাছীতে মাঝরাতে বাড়িতে ঢুকে গৃহকর্তাকে হত্যার চেষ্টা আটক ১       রাজশাহীতে ওয়ার্কাস পার্টির সহায়তায় ৬৫০ শ্রমিক পেলেন খাদ্যসামগ্রী       বিসিক শিল্প-মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত, সম্পাদক মালেক       নাটোরে ভেজাল গুড়ের কারখানায় র‌্যাবের অভিযানে জরিমানা       সাপাহার থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকী প্রদানকারী মিনি আটক       পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে করোনার সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন       নওগাঁয় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের পৃথক ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু       স্ত্রীর পা ধরে কান্নাকাটি যুবকের, ছবি ভাইরাল    

আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জে শুটকি পল্লীগুলোতে মাছ কাটার বিনিময়ে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় মাছের পেটা (মাছের পেটের মধ্যে থাকা নাড়ি-ভুড়ি বিশেষ)। আর পেটা বিক্রি করে যে অর্থ তারা পান তা পারিশ্রমিকের তুলনায় বেশি বলেই শ্রমিকরা পেটার বিনিময়ে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। মাছ কাটার কাজ করে গোপালগঞ্জের শত শত নারী শ্রমিক এখন স্বাবলম্বী।

গোপালগঞ্জের ১০ হাজার ৮শ ৯০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিল। এখানকার জেলে সম্প্রদায়ের লোক মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে। এক সময়ে এই বিলে এতো বিপুল পরিমাণ মাছ ছিল যে চান্দার বিল বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। মাছের প্রাচুর্যের জন্য এ বিলকে এখনও বলা হয় গোপালগঞ্জের ঐতিহ্য।

এছাড়াও, জেলার পাঁচটি উপজেলায় রয়েছে ছোট-বড় অন্তত ১১৪টি বিল। আর এসব বিলের জেলেদের নিকট থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনে শুটকি তৈরি করেন প্রস্তুতকারীরা। শুটকি তৈরির জন্য মাছ কাটা হয়। আর এসব মাছ কাটেন অসংখ্য নারী শ্রমিক। মজুরি বাবদ তারা কেজি প্রতি পান ৮ থেকে ১০ টাকা। যদি টাকা না নেন তাহলে পান মাছের পেটা। এই পেটা বিক্রি করে শ্রমিকরা বেশি অর্থ পান বলে তারা জানিয়েছেন। যে কারণে তারা অর্থের তুলনায় পেটা নিতেই বেশী আগ্রহী।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাছের শুটকী পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, গোপালগঞ্জে মাছের শুটকি তৈরি করছে ছোট-বড় প্রায় ২ হাজার মাচা। মাছের আঁশ ও পঁচা মাছের গন্ধে মাছি সবসময় ভনভন করে। আর কাক ডাকা ভোর থেকে এ ধরনের পরিবেশেই মাছ কাটতে আসেন শত শত নারী শ্রমিক। শুটকির মাচার পাশে গোল হয়ে দা-বটি নিয়ে ছোট প্রজাতির টেংরা, খৈলসা, পুটি, মলা, টাকি, মেনি, মাছ কাটতে বসে যান তারা।

মাছ কাটতে আসা জোৎস্না বৈরাগী বলেন, আমরা খুব ভোর থেকেই কাজ করি। প্রতিদিন সকাল ১০ পর্যন্ত কাজ করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা মজুরি পাই। তবে মজুরি বাবদ মাছের পেটা নিলে তা বিক্রি করে বেশি টাকা পাই। আমি এখান থেকে আয় করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহের জন্য স্বামীকে সাহায্য করতে পারি বলে জানান তিনি।

আরেক শ্রমিক উজলী বালা বলেন, আমরা অনেকেই এখানে মাছ কাটার কাজ করি। বেশি কাজ করলে বেশি মজুরি পাই। তবে আমি দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি মাছ কাটতে পারি। এখান থেকে পেটা নিয়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে যায়।

শুটকি প্রস্তুতকারী অমল বালা বলেন, আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ শুটকি তৈরি ও বিক্রি করে আসছি। শুটকি তৈরির জন্য এখানে মাছ কাটতে এসে অনেকই মজুরি হিসেবে টাকা না নিয়ে মাছের পেটা নেয়। আগের তুলনায় বর্তমানে দেশিয় মাছ কম পাওয়া যায়। দাম বেশি থাকায় শুটকি তৈরি ও বিক্রি করে আগের মতো তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই শ্রমিকদেরও বেশি মজুরি দিতে পারছি না। তবে আমার এখানে মাছ কাটার কাজ করে অনেক নারী শ্রমিকরাই স্বাবলম্বী হয়েছে।

এসব মাছের পেটা দিয়ে কি হয় এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাছের পেটা ক্রেতা ও শুটকি ব্যবসায়ী অমল বালা জানান, এসব মাছের পেটা তারা আগুনে তাপ দিয়ে তেল তৈরী করেন। এ তেল আবার তারা চ্যাপা শুটকি তৈরীতে ব্যবহার করে থাকেন। এ শুটকি তারা বেশী দামে বাজারে বিক্রি করে থাকেন।

তিনি জানান, এ অঞ্চলের মিঠা পানির বিভিন্ন শুটকির চাহিদা রয়েছে সারাদেশে।

0Shares

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top