শিরোনাম

আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:০৮ অপরাহ্

বিশেষ সংবাদদাতা :

জিয়াউর রহমান ও বিএনপির সময় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া একতরফা নির্বাচন করে জনগণের ভোট চুরি করে নিজেকে তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিল। সে নির্বাচনে দুই ভাগ ভোটও পড়েনি। এসব কারণে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বড় বড় কথা মানায় না।

শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটা সাজানো নির্বাচন ছিল। সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি নির্বাচন করল। জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করেছিল, প্রধানমন্ত্রী করেছিল, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেও সেই একই কাণ্ড ঘটাল।

তিনি বলেন, ভোট চুরি করে খুনি রশিদকে নির্বাচিত করল। কর্নেল রশিদ ও মেজর হুদাকে নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে বসাল। খুনি রশিদকে খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতার সিটে বসিয়ে দিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই ক্ষমতায় বেশিদিন থাকতে পারেননি। ভোটচুরির কারণে মাত্র দেড় মাস ক্ষমতায় ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়ে, ৩০ মার্চ তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ বিএনপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের আমি জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তাদের কথা-ই ছিল, ১০টা হুন্ডা ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা। তার-ই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল জেনারেল এরশাদও।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার রুখে দিতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। এরশাদও জিয়ার পথ অবলম্বন করে ক্ষমতা দখল করল। তার থেকেও এক ধাপ এগিয়ে খালেদা জিয়া। তিনি ৯৬ সালে সাজানো নির্বাচন করলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের এমপি-মন্ত্রী করলেন। যারা এভাবে খুনিদের মদদ দিতে পারে, তারা গণতন্ত্রের কথা কীভাবে বলে?

সরকারপ্রধান বলেন, তারা ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘর ছাড়তে হয়েছে। আমরা গোপালগঞ্জে সে সময় অনেক নেতাকর্মীকে আশ্রয় দিয়েছি। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। আমাদের নেতাকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে, হাত কেটে নিয়েছে, চোখ তুলে নিয়েছে। নেতাকর্মীদের ভিটেবাড়িতে পুকুর কেটে কলাগাছ লাগিয়েছিল। হাজার হাজার মেয়েকে রেপ করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার নির্দেশেই এগুলো করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাজ ছিল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা। বাংলাদেশ যেন কখনও এগিয়ে যেতে না পারে, এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তাদের আমলে ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ ও পানির হাহাকার দেখা দেয়। আজ ঢাকা শহরের পানির চাহিদা আমরা পূরণ করছি। আমরা আরও পানি শোধনাগার করছি। এখন ঢাকা শহরে কেউ এলে দেখবে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শহরের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে।

পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কলা খেয়ে রাস্তায় খোসা ছুড়ে ফেলা যাবে না। নিজেদের শহরকে নিজেদেরই পরিষ্কার রাখতে হবে। বিনোদনের জন্য শহরে খেলার মাঠ রাখতে আমরা কাজ করছি। মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। পাকিস্তানি আমলের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। জাতির পিতা বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সুবিধাভোগী, খাওয়া পার্টি। মানুষকে কিছু দিতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের থেকে আলাদা। আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ হলো জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই প্রধান অতিথি জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোন করেন। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আশরাফ উদাস ও শাহনাজ বাবু গান পরিবেশন করেন। সাইফুল ও তার দল নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন উত্তরের দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল ও দক্ষিণের দফতর সম্পাদক গোলাম রব্বানী বাবলু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যের মধ্যে উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বক্তব্য রাখেন।

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top