শিরোনাম

আজ শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঢাবি প্রতিবেদক : 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো রাজার দেশ নাকি যে, প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করলে মামলা খেতে হবে? প্রধানমন্ত্রী জনগণের সেবক, ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে আমরা নির্বাচিত করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাও আমরা করতে পারি, তাঁর ভালো কাজের প্রশংসাও করতে পারি।’

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সমাবেশে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি বলেন, ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পদ থেকে আপনি সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে ছাত্রলীগের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে তাদের সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে, তা থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কীভাবে মুক্তি পাবে? দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কিন্তু জনগণ নিজের মুক্তির নতুন পথ আবিষ্কার করে নেবে, যেটি জনগণ করেছিল স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের এনএসএফকে প্রতিহত করতে। তাই সময় থাকতে আপনি আপনার ছাত্রসংগঠনকে ঠিক করুন। আপনার নির্দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে, অথচ আপনার ছাত্রলীগ একজন দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে বাঁচাতে লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’

ভিপি নুরুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে উপাচার্যদের এখন লাঠিয়াল ও সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রয়োজন হয়। আর সেই বাহিনী হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন। অতীতে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তাদের ছাত্রসংগঠন সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এখন ছাত্রলীগ উপাচার্য রক্ষা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগ এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে।’ নুরুল অভিযোগ করেন, ‘প্রতিটি আন্দোলনে, এমনকি দ্রব্যমূল্য বাড়লেও সরকার সেখানে জামায়াত-শিবির খুঁজে পায়।’ আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে নুরুলের প্রশ্ন, ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে তাঁরা কী করলেন? তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির যদি এতই ক্ষমতাবান হয়ে থাকে, তাহলে সরকার তো ব্যর্থ, জামায়াত-শিবিরের কাছে পরাজয় বরণ করেছে।

ডাকসুর ভিপি বলেন, ‘অতীতে ছাত্রলীগের অনেক ভালো কাজ থাকলেও বর্তমানে তারা সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে আমরা অস্বীকার করছি না। তবে গত ১৫-২০ বছরে ন্যূনতম শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে লড়াই-সংগ্রাম শুরু করেছি, তা অব্যাহত থাকবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অছাত্র-বহিরাগত ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে প্রভোস্টের বাংলো, উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবন ঘেরাও করার আহ্বান জানিয়ে নুরুল বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এটি করতে পারলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।’

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Share on Facebook Share on Twitter

আরও পড়ুন