শিরোনাম

আজ মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

প্রায় পাঁচ বছর পর সম্প্রতি নগর ভোটে হেরে একটি হরতাল ডাকে বিএনপি। কিন্তু দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তিতে গত দুই বছরেও কোনো হরতাল কর্মসূচি করতে পারেননি তারা। বন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ছিল সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল আর সেমিনারের মধ্যে বন্দি। দৃশ্যত কিছু না করতে পারলেও মাঝে জামিন লাভের তোড়জোড় ছিল অনেকটা আলোচনায়। কিছুটা আশা জাগিয়ে তাও ভেস্তে গেছে।
বিএনপি বরাবরের মতো খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তার মুক্তি দাবি করছে। এ দাবিতে মানবিক বিবেচনাও সামনে আনছে। কিন্তু সরকার বলছে, এটা আইনি প্রক্রিয়া। সব মিলিয়ে দুই বছর ধরে সত্তরোর্ধ বিএনপি প্রধানকে কারাগারেই কাটাতে হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।
চিকিৎসার জন্য ১০ মাসের বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সপ্তাহ দুয়েক পরপর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন পরিবারের সদস্যরা। শারীরিক অবস্থা নিয়ে জানাচ্ছেন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। বার্ধক্যজনিত কিছু সমস্যা তো রয়েছেই। সেরে উঠতে সময় লাগবে। তবে খালেদা জিয়ার পরিবারের দাবি, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া হাঁটাচলা তো দূরের থাক, খেতেও পারছেন না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সরকার নমনীয় না হলে খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি আদৌ সম্ভব নয়। এখন একমাত্র পথ হলো রাজপথ। মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে না পারলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানো যাবে না। যেকোনো মূল্যে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। ‘জগদ্দল পাথরের’ মতো বসে থাকা সরকার রাজনীতি করার কোনো স্পেস দিচ্ছে না। আর সময়টা এখন আগের মতো হরতাল-ধর্মঘটের নয়। কারণ, দেশে এখন সে পরিবেশ-পরিস্থিতি নেই।
সুযোগ আসবে তবে কবে সেটা বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে দলের তৃণমূল নেতারা অনেকটা নাখোশ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি। তারা বলছেন, রাজপথ ছাড়া কোনো কায়দা বুদ্ধিতেও খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। আন্দোলনের জন্য তৃণমূল প্রস্তুত। কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্দেশনার জন্য মাঠে নামতে পারছেন না। তৃণমূলে সাংগঠনিক শক্তি জোরদারেও তেমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনের মধ্যেই আছে। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে এই আন্দোলন বেগবান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করে চেয়ারপারসনের মুক্তি বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সময়মতো নতুন কর্মসূচি আসবে।
খালেদা জিয়ার কারাবন্দির দিনে বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করবে জানিয়ে দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, এখনও পুলিশের অনুমতি পাইনি। তবে আশা করছি পাব। আমরা চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনে আছি। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা সুযোগের সদ্যবহারের অপক্ষোয় আছি। সময় একদিন পাল্টাবে। পরিবর্তন আসবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে ওয়ান মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন আছে। তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন ঢাকা কেন্দ্রীক ও বিবৃতি সর্বস্ব। তৃণমূলে কিছুই পৌঁছাচ্ছে না। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তিতে সুস্পষ্ট কোনো কর্মসূচিও নেই। নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তারা। ঢাকা সিটি নির্বাচন পরবর্তী পদক্ষেপেও বিএনপি চতুরতা ও বুদ্ধিও পরিচয় দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে দল কি করবে সময়ই তা বলে দেবে।

এ দিকে গত দুই বছর উচ্চ আদালতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর জামিন লাভের চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি তার আইনজীবীরা। এখন জামিন পাওয়ার আশাও অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া জামিনের আশা না করাই শ্রেয়। সরকার চাইছে না খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে কারামুক্তি পান। খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। প্যারোলে কারামুক্তির বিষয়টি একান্তই বেগম জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাকে রাখা হয় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।
মামলায় ওই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল ও জামিন আবেদন করা হয় গত বছর ১৪ মার্চ। তারপর ১০ মাসেও মামলায় আপিল ও জামিন শুনানির উদ্যোগ নিতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবীরা। ২০১৮ সালেরই ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এ সাজা থেকে খালাস চেয়ে গত বছর ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এটিও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

শনিবার ঢাকায় সমাবেশ : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৮ ফেব্রæয়ারি শনিবার ঢাকায় সমাবেশসহ দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। খালেদার কারাগারে থাকার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে এই সমাবেশ ডেকেছে দলটি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে আছে, আজ শুক্রবার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দেশব্যাপী বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং ৮ ফেব্রুিয়ারি দুপুর ২টায় ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ। সেই সঙ্গে একই দিনে সারা দেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় কারাবর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার ও লিফলেট প্রকাশ করবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

 
 
 

আরও পড়ুন

 

Top