গৃহবন্দী লাখো শিক্ষার্থীর বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠেছে এনএনও আড্ডা

 

রিড নিউজপেপার, গেইন নলেজ। এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ন্যাশনাল নিউজ পেপার অলিম্পিয়াড। সংবাদ পত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই মূলত একযোগে সারাদেশে এর বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়।ধীরে ধীরে এটি হয়ে ওঠে সবার প্রিয় একটি অলিম্পিয়াড। বর্তমানে পৃথিবীবাসি এক ভয়ঙ্কর ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে।করোনায় সবাই হয়ে পড়েছে গৃহবন্দী। কোয়ারেন্টাইনের এই দিনগুলোকে একটু আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয় করে তুলতেই নিউজপেপার অলিম্পিয়াডের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ এনএনও আড্ডা। প্রতিদিন এনএনও আড্ডায় গেস্ট হিসেবে থাকছেন দেশ-বিদেশের বরেণ্য সব ব্যক্তিবর্গ।

সম্প্রতি গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার ও একমাত্র বাংলাদেশী পরিচালক জাহিদ সবুর যোগ দেন এনএনও আড্ডায়! আড্ডাটিতে দর্শক ছিল ১ লাখের উপরে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এনএনও আড্ডা এখন সবার ভালোবাসার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিখ্যাত লেখক কিংকর আহসান, কার্টুনিস্ট অন্তিক মাহমুদ, জাভেদ পারভেজ, ইকবাল বাহারসহ আরও অনেকেই যুক্ত হয়েছিলেন এ আড্ডায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিরা এই শো তে যোগ দিচ্ছেন।

গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ সবুর বলেনঃ “এনএনও পরিবার অনেক ভালো একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আমি তাদের এ কাজকে সাধুবাদ জানাই।করোনার দিনগুলোতে এরকম অনুষ্ঠান সবাইকে অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করছি।”

এনএনও আড্ডার হোস্ট নুসরাত সায়েম বলেন: “দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে টিভির পর্দায় দেখতাম তাদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি এটা আমার কাছে অন্যরকম এক অনুভুতি।মজার মজার সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছি প্রতিনিয়ত।কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে এরকম আড্ডা সত্যি সবার ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্টে অনেক কাজে লাগছে।আমি নিজেও অনেক অনুপ্রাণিত হচ্ছি।”

ড্রিমস ফর টুমরোর প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ পারভেজ বলেনঃ “এনএনও সবসময় ব্যতিক্রমী চিন্তা করে।ওদের চিন্তাচেতনায় নতুনত্বের হাতছানি আমাকে মুগ্ধ করে, কাছে টানে বারবার। তাইতো একটু সুযোগ পেলেই ওদের কার্যক্রমে ছুটে আসার চেষ্টা করি। তাদের সাথে যুক্ত হতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। ইতোমধ্যে বহির্বিশ্বেও তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। আশা করি ভবিষত্যে তারা আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে।”

এনএনও সভাপতি লাব্বী আহসান বলেনঃ “ঘরে বসেই যাতে সবাই বিভিন্ন কো কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস এর উপর হাতেখড়ি ও তাদের প্রিয় মানুষদের সম্পর্কে জানতে পারে, সেজন্যই এ আয়োজন। এরফলে দর্শকরা সরাসরি তাদের মনের প্রশ্নগুলো অতিথীদের সাথে শেয়ার করারও সুযোগ পাচ্ছেন। সাংবাদিকতা, লেখালেখি, উপস্থাপনা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ড্রয়িং, ফটোগ্রাফীসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বেশ কাজে লাগছে এই এনএনও আড্ডাটি।”

 

ফাহাদ ফরহাদ, ডেপুটি ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর, রাজশাহী -এনএনও

অবশেষে মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

দুই বছর এক মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে মুক্তি পেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  আজ বুধবার বিকাল ৪টার পর কারা হেফাজতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি পান তিনি।  বয়স ও মানবিক বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার।  তার সঙ্গে মুক্তি পান গৃহকর্মী ফাতেমাও।

এসময় কেবিন ব্লকের সামনে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় জমায়। ভিড় কমাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবারের সদস্যরা।

মুক্তি পেয়ে সরাসরি খালেদা জিয়া চলে যান গুলশানে তার ফিরোজা বাসভবনে। এর আগে প্রস্তুত করা হয় গুলশানের বাসভবনটি।

বিএনপি চেয়ারপারসন ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় প্রথমে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলেও পরে উচ্চ আদালত তার শাস্তি বাড়িয়ে ১০ বছর করে।

অন্যদিকে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলাতেও তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়।

গত বছর ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ৩৬টি রয়েছে। পরে সরকার গত মঙ্গলবার শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

করোনা আক্রান্ত শিশুর প্রশ্ন- আমি কি মারা যাব?

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আগেই মহামারি আকার ধারণ করেছে চীনে। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়েছে পড়ে। আর মৃত্যুর মিছিলে নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ কেউই করোনার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

এবার যুক্তরাজ্যের ওরচেস্টারশায়ারের এক ৫ বছরের শিশুর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা তুলে ধরছেন মা লরিন ফুলব্রুক।

৫ বছরের আলফির প্রথমে হালকা জ্বর আসে, সেই সঙ্গে বমি এবং হ্যালুসিনেশন। এই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে করোনা পজেটিভ আসে তার।

জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা লিখে ফেসবুকে ৫১ হাজারের বেশি বার শেয়ার করেন তার মা লরিন। মার্চের ১৬ তারিখে লরিন লেখেন আলফির ব্লাড সুগার ৩.৭ এ দাঁড়িয়েছে, হার্টবিট কমে গেছে , তার শ্বাসকষ্টে সমস্যা হচ্ছে এবং সে রীতিমত কাঁপছে। সে সময়টা তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল বলে বলছেন লরিন।

কিভাবে আলফি ধীরে ধীরে অসুস্থ হলো তা বর্ণনা করেছেন তার মা। সাঁতার শিখতে যেয়ে বেশি ক্লোরিন খেয়ে ফেলে আলফি, এরপর তার কফ আসা শুরু হয়, সেই থেকে পরবর্তীতে জ্বর।

এরপর তার স্কুল বন্ধ করে বাসায় রাখলে সে সুস্থ বোধ করে। একদিন পর আবার জ্বর আসে, খাওয়ায় অরুচি আসে সেই সঙ্গে কোথাও নড়াচড়া করতে চায় না। এরপর জরুরি নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে পরীক্ষার পর করোনা ধরা পরে তার। তারপর আইসোলেশনে রাখা হয়। আলফি তার মাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কি মারা যাব? মা লরিন সাহস যোগান। একদিন পর  আইসোলেশনে রাখার শর্ত দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়। লরিন জানান, ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেছে আলফি। তবুও শরীরে হালকা তাপমাত্রা আছে।

করোনাকে স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন লরিন সেই সাথে প্রথম থেকেই রোগীর যত্ন নেওয়ার ব্যাপারেও সচেতন কথা বলেছেন তিনি। লরিন সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। সেই সাথে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির সব প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সব প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। এখন আইজি প্রিজন বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যতটুক সময় লাগে। তারপরই মুক্তি পাবেন তিনি।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শর্ত ভঙ্গ করলে দণ্ড স্থগিতের আদেশ বাতিল হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না

খালেদার মুক্তির অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা, প্রস্তুত ‘ফিরোজা’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় নেতা-কর্মীরা। ঢাকাসহ সারাদেশেই নেতাকর্মীরা বেগম জিয়ার মুক্তির প্রহর গুণছেন। গত দু’দিন ধরে নেতা-কর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করছেন।

কেবিন ব্লকের সামনের ফটকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের পাশাপাশি ফটকের ভেতরে-বাইরে অপেক্ষায় গণমাধ্যমের কর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

জানা গেছে, বিএনপি প্রধানের মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বিকালেই মুক্তি পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ বেশকিছু নেতাকর্মীকে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এদিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেগম জিয়ার গুলশান এভিনিউয়ে ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর ডুপ্লেক্স ‘ফিরোজা’ বাসভবনটিও। এতদিন ছিল নিঃসঙ্গ, সুনশান নিরবতা। সেই নিরবতাও ভাঙতে যাচ্ছে বেগম জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে। এখন ভবনটির ধোয়া মোছার কাজ শেষ হয়েছে। ওই বাড়ির গ্যাস ও টেলিফোন লাইন এখনও কাটা।

রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবস্থা হয়েছে। তবে পানির লাইন ঠিক হয়েছে। ছাদে পানির ট্যাংকও পরিষ্কার করা হয়েছে।

ফিরোজা’ থেকে ২৫ মাস আগে দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় কারাগারে। সরকার তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর সেই ফিরোজা আবারও প্রস্তুত করা হয়।

‘ফিরোজা’র দায়িত্ব পালনরত একজন নিরাপত্তা সদস্য জানান, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) বরণ করতে আমরা প্রস্তুত। বাসার প্রতিটি কক্ষ ধোয়া-মোছা করা হয়েছে। দোতলায় তার বেড রুম, রিডিং রুম ও ছোট ড্রইং রুম এবং নিচের বড় ড্রইং রুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বাসার দোতলার প্রবেশপথে ফুলে টব রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুযারি সকালে খালেদা জিয়া এই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় যেভাবে সিঁড়ির সামনে টব রাখা ছিল, ঠিক সেভাবে তা রাখা হয়েছে।

বাসা নতুন করে গুছানোর বিষয়টি তদারক করছেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। এতদিন তারাই এ বাড়ির দেখাশোনা করেছেন।

খালেদা জিয়ার সেঝ বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মুক্তির পর উনি ফিরোজাতেই উঠবেন। সেভাবে সব কিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা এখন তার মুক্তির অপেক্ষায় আছি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দলের চেয়ারপারসনের থাকার জন্য গুলশানের বাসভবনকে ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছি। দীর্ঘ দুই বছর এই বাসা একেবারে বন্ধ ছিল। তবে ম্যাডাম বাসায় উঠবেন না হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন সেটা নির্ভর করছে উনার সিদ্ধান্তের ওপর।মুক্তির পর উনার সঙ্গে আলাপ করেই এটা ঠিক করা হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সব কিছু করা হয়েছে ফিরোজায়। উনি বাসায় আসার পর তার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে। উনাকে যারা দেখতেন, সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আমরা ইনভাইট করেছি। তারা আসার পর একটি সম্মিলিত মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গত দুই বছরে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সন্তানরা দুই দফা দেশে এসে ফিরোজায় উঠেছিলেন। বাকি সময় বাড়িটি খালিই ছিল।

ইতালির চেয়ে ভয়াবহ পরিণতির শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রে

বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু মিছিল অব্যাহত ৷ চীনের পর মৃত্যুপুরী ইতালি। আর ইতালির চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮ হাজার নয় শতাধিক মানুষ মারা গেছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে।

চীনে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৮১ হাজার দু’শ ১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে তিন হাজার দু’শ ৮১ জন মারা গেছেন।

খুশির খবর হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৩ হাজার ছয়শ ৫০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শঙ্কা, পরবর্তী সময়ে ইতালির চেয়েও বেশি মৃত্যু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। গত বুধবার সে দেশে তিন হাজার পাঁচশ জন আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল রাত পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার নয়শ ৭৬ জন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ রাজ্যে এই সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তার মধ্যে অন্তত সাতশ পাঁচ জন মারা গেছেন। ডাব্লিউএইচও বলছে, ইতালির পর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ব্রিফিং করেন।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি।

তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স (৬৫), পুরুষ। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

গ্রামের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা আনা হয়েছিলো। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

টুডে/সামী

১০০ বছর বয়সে বিয়ে, করোনাকে হার মানাল ভালোবাসা

কভিড-১৯ করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে হার মানিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ইয়াবর আব্বাস ও নূর জহির। ভালোবাসাই এ জুটিকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রেখেছেন। ১০০ বছর বয়সী ইয়াবর আব্বাস ব্রিটেনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিবিসি’র সাবেক সাংবাদিক। অন্যদিকে নূর জহির ভারতীয় অধিকারকর্মী ও লেখিকা।

ইয়াবর আব্বাস বলেন, এই বিয়ের উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসা। আমরা দু’জনে ভালোবাসায় ডুবে গিয়েছি। আমার বয়স কত সেটা কোনো বিষয়ই নয়! নূর সবে ৬০ বছর পেরিয়েছে! তবুও বয়সের এই ব্যবধান কিছুই না।

আমরা বিয়ে করে একত্রিত হতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।

আগামী ২৭ মার্চ ইয়াবর আব্বাস ও নূর জহিরের বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের আগ্রাসী প্রভাব বাড়তে থাকায় নির্ধারিত তারিখে বিয়ে হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই তারা শুভকাজটি আগেই সেরে ফেলেছেন!

যুক্তরাজ্যফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে বাবার মৃত্যু!

সিলেটে যুক্তরাজ্যফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে মারা গেছেন কিডনি রোগে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের হাউজিং এস্টেটের একটি বাসায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। পরে কোনো ধরনের নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রাতেই শহরের মানিকপীর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিটি করপোরেশন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ওই বৃদ্ধ কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাচ্ছিলেন। এরমধ্যে গত ১৪ মার্চ তার ছেলে যুক্তরাজ্য থেকে বাসায় আসেন।

ছেলে বাড়ি আসার দুই-তিন দিন পর ওই বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এরপর নির্দিষ্ট তারিখের আগেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে যান তিনি। চিকিৎসকরা আগে আসার কারণ জানতে চাইলে শ্বাসকষ্টের কথা তুলে ধরেন। ছেলে যুক্তরাজ্যফেরত জানতে পেরে ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ মৃত্যুর ঘটনাটি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

কারণ স্থানীয়দের ধারণা ছেলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ওই বৃদ্ধ মারা গেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গত ২২ মার্চ ওই বৃদ্ধের বাসায় যান। সে সময় নিহত বৃদ্ধার স্ত্রী জানান, চারদিন ধরে তার স্বামী জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এ অবস্থায় অসুস্থ বাবাকে রেখেই ছেলে পুনরায় যুক্তরাজ্যেফেরত যান। এ সময় জাহিদুল ইসলাম ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এছাড়া বাসায় কোনো মেহমান আসতে নিরুৎসাহিত করাসহ বাসাটি লকডাউনের নির্দেশনা দিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, তারা পরামর্শ অনুসারে হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় ছিলেন। রাতে মৃত্যুর খবর জানতে পেরে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

তবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের পিপিই নেই। এছাড়া রোগতত্ত্ব বিভাগের লোকজন ছাড়া নমুনা সংগ্রহ করা দুস্কর। তাই এটি করোনায় সাসপেক্টটেড কেস হওয়ায় দ্রুত দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি।

টুডে/সামী